ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩’-এর আওতাধীন বাঞ্ছারামপুর জোনাল অফিসে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যানুযায়ী, অফিসটি যেন অনিয়মের এক অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিযোগের জন্ম হচ্ছে।
সম্প্রতি বড় অভিযোগটি উঠেছে জোনাল অফিসের বর্তমান ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) গোলাম মুর্তজা ও মিটার রিডার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের অজুহাতে কিছু গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন মিটার রিডার জাহাঙ্গীর।
তবে নিয়মানুযায়ী, লাইন বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা একজন মিটার রিডারের নেই বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেই থেমে থাকেননি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, লাইন বিচ্ছিন্নের জরিমানা নাম করে বহু গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন জাহাঙ্গীর। পরে সেই টাকা গ্রহণের পরপরই পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেন।
স্থানীয়দের দাবি, এই কর্মকাণ্ডে অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও যোগসাজশ রয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত মিটার রিডার জাহাঙ্গীর দ্রুত গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে আমরা অনেক কিছুই করি। টাকা নিয়েছিলাম, এটা আমার ভুল হয়েছে। পরে টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছি।’
এ জানতে চাইলে গোলাম মুর্তজা অভিযোগগুলোকে “ছোট বিষয়” বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় ভিডিও করে হাইলাইট করার কোনো মানে হয় না। আপনার কিছু বলার থাকলে লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসেন।’
সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে তিনি স্পষ্ট জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান। এমনকি একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্যামেরা বন্ধ করার হুমকি দেন এবং সাংবাদিককে অবমাননাকর মন্তব্যও করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মুজিবুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ঘটনা যদি সত্যি হয়, আমি ডাইরেক্ট সাসপেন্ড করে দিবো। কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।’
কেকে/এমএ