বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই বনায়ন কার্যক্রম জোরদারে তালগাছ চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আশার আলো সেবা ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে ‘তাল চারা উৎপাদন ও নার্সারি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এ কর্মশালায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (চট্টগ্রাম) বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগের ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার কর্মকর্তা মো. নাজমুল আহছান ভূঁইয়া, একই বিভাগের কর্মকর্তা শেখ মো. মেহেদী হাসান, আশার আলো সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খান আশরাফুল ইসলাম ও নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইফুল ইসলাম।
কর্মশালায় বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে তালগাছের বহুমুখী গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, ভূমিক্ষয় রোধ এবং বিশেষ করে বজ্রপাত ও ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমাতে তালগাছ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে টেকসই আয়ের উৎস তৈরিতেও এই গাছের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. জহিরুল আলম বলেন, “পরিকল্পিতভাবে তালগাছের আবাদ বাড়ানো গেলে এটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।”
বিশেষ অতিথি মো. নাজমুল আহছান ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, ‘‘তালগাছের ফল, পাতা ও রস অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক, যা স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।’’
প্রশিক্ষণে তাল চারা উৎপাদন, সঠিক রোপণ পদ্ধতি, পরিচর্যা কৌশল ও তাল রস থেকে গুড় তৈরির আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ চালু থাকলে উপকূলীয় বনায়ন একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, তেমনি স্থানীয়দের জীবিকায়নের পথও প্রশস্ত হবে।
কেকে/এসএ