সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে নূর মোহাম্মদ নামের এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী গেঞ্জিতে ফুয়েল কার্ড প্রিন্ট করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার জামতৈল বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে চলাচল করতে দেখা যায় ওই ব্যবসায়ীকে। নূর মোহাম্মদ স্থানীয় ‘সোনালী টেলিকম অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস’-এর মালিক।
জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ শহরের কাজীপুর মোড়ের পার্ক ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ তার কাছে ফুয়েল কার্ড ছিল না। পরদিন তিনি কার্ড সংগ্রহ করলেও নতুন সমস্যায় পড়েন।
কার্ডটি আকারে বড় হওয়ায় সঙ্গে বহন করতে অসুবিধা হচ্ছিল। পাম্পে গেলে বারবার কার্ড দেখাতে বলা হচ্ছিল, এমনকি মোবাইলে ছবি দেখিয়েও কাজ হচ্ছিল না।
এ অবস্থায় তার মাথায় আসে অভিনব এক বুদ্ধি—ফুয়েল কার্ডটি গেঞ্জিতে প্রিন্ট করে নেওয়া। গেঞ্জির সামনে নিজের নাম, ছবি ও পরিচয় এবং পেছনে তেল নেওয়ার তারিখ ও নির্দেশনা প্রিন্ট করে নেন তিনি।
নূর মোহাম্মদ বলেন, “কার্ড ছাড়া তেল দেয় না। প্রয়োজনীয় তেলের জন্য গেলে পাম্পে বলা হতো তেল নেই। পরে ফুয়েল কার্ড চালু হলে আমি কার্ড সংগ্রহ করি। কিন্তু বড় হওয়ায় তা সঙ্গে রাখতে সমস্যা হতো। তেল নিতে গেলে কার্ড দেখাতে বলা হতো, ছবি দেখালেও গ্রহণ করা হতো না। তখন ভাবলাম, কার্ডটি গেঞ্জিতে প্রিন্ট করে নিলে আর ভুলে যাওয়ার ভয় থাকবে না। এই নিয়ম যতদিন থাকবে, ততদিন আমি এই গেঞ্জি ব্যবহার করেই তেল নেব।”
রফিকুল ইসলাম নামের এক চালক বলেন, “আইডিয়াটা হাস্যকর মনে হলেও কাজে দিচ্ছে। আমাদেরও অনেক সময় কার্ড নিয়ে ঝামেলা হয়।”
আরেক চালক শামীম হোসেন বলেন, “এই সিস্টেমটাই জটিল। কার্ড ছাড়া তেল না দিলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। তার এই উদ্যোগ এক ধরনের প্রতিবাদও। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও সহজ পদ্ধতি দরকার।”
স্থানীয়রা জানান, কেউ বিষয়টিকে মজার হিসেবে দেখলেও কেউ আবার বলছেন, এটি প্রশাসনিক জটিলতার বাস্তব চিত্র। এটি হাসির হলেও আসলে কষ্টের গল্প—মানুষ প্রয়োজন মেটাতে কী না করছে।
শহরের পুরোনো মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরা বলেন, একটি ফুয়েল কার্ড ঘিরেই এমন সৃজনশীল সমাধান নজিরবিহীন। নূর মোহাম্মদের এই উদ্যোগ যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনি প্রশ্ন তুলছে—ব্যবস্থাপনাটি আরও সহজ করা যায় কি না।
কেকে/এলএ