মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
দখল-ভরাটে নিশ্চিহ্নের পথে দিঘা বিলের সংযোগ খাল
আরিফুল হক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নে ভরাট হয়ে নিশ্চিহ্নের পথে ২০০ বছরের পুরোনো দিঘা বিলের সংযোগ খালটি খননের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, খালটি জাটিয়া ইউনিয়নের হাড়িশ্বর গ্রামের একটি বন্দ (মাঠ) থেকে শুরু হয়ে পার্শ্ববর্তী হারুয়া,
দরগাপাড়া-তুলিয়াটি ও মালিয়াটি গ্রামের ৪-৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে টাংগনগাতি গ্রামের দিঘা বিলে গিয়ে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি দখল-দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে আশপাশের গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কয়েক গ্রামের শতাধিক একর কৃষিজমি, শতশত পানের বরজ ও পুকুরের পাড় ভেঙে মাছ বেরিয়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিপাকে রয়েছেন কৃষকেরা। 

কৃষকরা দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে খাল খননের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষ করে টাংগনগাতি গ্রামে দিঘা বিলের সংযোগ স্থলের কাছাকাছি স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড সদস্য বাচ্চু মিয়া খাল দখল ও ভরাটের মাধ্যমে পাড় উঁচু করে একটি পুকুর খনন করেছেন। এতে দিঘা বিলের সংযোগস্থ থেকে খালটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আশেপাশের কয়েক গ্রামের ফসলি জমি-পানের বরজ নষ্ট হচ্ছে এবং পাড় ভেঙে পুকুর মাছ বেরিয়ে যাচ্ছে। যেকারণে চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

টাংগনগাতি গ্রামের আবুল কালাম (৮০) বলেন, ‘৪০ বছর আগেও এই খাল দিয়ে আমরা নৌকা চালিয়ে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতাম। তখন ২৪-২৫ ফুট প্রশস্ত ছিল খালটি। খালে নৌকা পেতে বসে চাষকৃত পাটের আশঁ ছাড়াতাম। কিন্তু এখন খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, দখল ও মাটি ভরাটের কারণে টাংগনগাতি-দরগাপাড়া, তুলিয়াটি ও মালিয়াটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শতশত একর ফসলি জমি পানিবন্দী থাকে। এই কারণে ওইসব জমিতে কোনো চাষাবাদ হয় না।’

টাংগনগাতি গ্রামের উজ্জল মিয়া (৩৫), শফিকুল ভূঁইয়া (৪০), আ. হেলিম ভূঁইয়া (৬০) ও হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘খালের মুখে পুকুর দেওয়ায় আমাদের পানি উঠে পানের বরজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিবারেই আমাদের অনেক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’ 

একই গ্রামের লাল মিয়া, নজরুল ইসলাম ও আবুল মুনসুর বলেন, ‘পাশপাশের ৫ গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান হলো দিঘা বিল। এসব গ্রামের বন্দের পানি যায় এই খাল দিয়ে। মুরব্বিরা বলেছে এই খালটি ২০০ বছরের পুরোনো। সিএস জরিপের মধ্যে খালের নকশাও আছে। কিছু লোক খাল দখল ও ভরাট করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। বর্ষাকালে টাংগনগাতি গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ওঠে। ফসলি জমি নষ্ট হয়। আমারা দিঘা বিলের সংযোগস্থলে খাল দখল করে খনন করা পুকুর উচ্ছেদ করে বিলের সাথে খালকে প্রবাহিত উপযোগী চাই এবং অবিলম্বে খালটি খননের দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।’

খাল দখল করে সংযোগস্থলে পুকুর দিয়ে জলাবদ্ধ তৈরি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়ার ছেলে মাসুদ বলেন, ‘খাল আগে থেকে ভরাট ছিল। যদি খাল খনন করে তাহলে আমরা পুকুরের পাড় সরিয়ে নিবো। আমরাও চাই, খালটি খনন করা হোক।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি জেনেছি। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  দখল   ভরাট   নিশ্চিহ্নের পথে   দিঘা বিলের সংযোগ খাল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close