মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ঝুলে আছে আইএমএফের কিস্তি ছাড়
উচ্চাভিলাষী সংস্কারের চাপে সরকার
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৩ এএম আপডেট: ১৯.০৪.২০২৬ ৯:৩৪ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলাসহ আর্থিক চাপ সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাড়তি ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। বিশেষ করে আইএমএফের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বৈশ্বিক এই দাতা সংস্থাটি অর্থ ছাড়ে যে শর্ত দিয়েছে, তা পূরণ করা এই মুহূর্তে সরকারের পক্ষে অনেকটাই কঠিন। বিশেষ করে রাজস্ব খাতে ব্যাপক সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু তা করতে গেলে ভর্তুকি কমানো, কর ছাড় কমানোসহ এমন কিছু উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে, যা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি করবে। অথচ এই সংস্কারগুলো না করলে আইএমএফের পরবর্তী কিস্তি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। আর আইএমএফের কিস্তি ঝুলে গেলে অন্য দাতাগোষ্ঠীরাও ঋণ দিতে আগ্রহী হবে না। সব মিলিয়ে ঋণ খাতে আর্থিক ও ব্যাংক খাতে সংস্কার আনতে হবে সরকারকে।

আইএমএফের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলমান। ৪৭০ কোটি ডলার দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। মাঝখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে ৮০ কোটি ডলার বাড়ানো হয়। আইএমএফ থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার, যা থেকে ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড় পাওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক শেষে তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এ কিস্তি ছাড়ের আলোচনা আইএমএফ নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে করবে।

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন গত ২৪ মার্চ ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে গেছেন। অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, ওই সময় কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন, প্রতি বছর বসন্তকালীন বৈঠকের পরপরই এপ্রিল মাসে যে আইএমএফের পর্যালোচনা মিশন দুই সপ্তাহের জন্য ঢাকায় আসে, এবার তা আসবে মে মাসে। ফলে আইএমএফের জুনের পর্ষদে কিস্তি ছাড়ের প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ার সুযোগ কম। জুলাইয়েও আইএমএফের পর্ষদ বৈঠক রয়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে যাতে কিস্তি ছাড়ের প্রস্তাব ওঠে, এবারের বসন্তকালীন বৈঠকে আইএমএফকে সেই অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

বসন্তকালীন বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক খাতের সংস্কার, একক ভ্যাট হার চালু করা, কর ছাড় কমিয়ে আনা—এসবসহ রাজস্ব খাতের সংস্কারের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে আইএমএফ। ঋণ অনুমোদনের পর ২০২৩ সালে আইএমএফ শর্ত দিয়েছিল যে, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রতি বছর দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ তা পারেনি। বর্তমানে ভ্যাট হার আছে ৫, ৭ দশমিক ৫, ১০ এবং ১৫ শতাংশ। আইএমএফ চায় একক ভ্যাট হার।

ওয়াশিংটনে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রীনিবাসন জানান, আর্থিক, রাজস্ব ও বিনিময় হার—এই তিন খাতেই বাংলাদেশের এখনো সংস্কারের অনেক কাজ বাকি। তিনি আরও বলেন, কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গত মাসে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বলেছি, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা সরকারের পক্ষেই উচ্চাভিলাষী সংস্কারকাজ হাতে নেওয়া সম্ভব। তারা আমাদের কথা শুনেছে। এখন আমরা দেখব তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিটা চলমান রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য উন্নয়ন সহযোগীরাও আইএমএফের মূল্যায়নকে বিবেচনায় নিয়ে থাকে। অর্থমন্ত্রী ও আইএমএফ—কারও কাছ থেকেই ঋণ কর্মসূচি চালু থাকা এবং পরের কিস্তি ছাড় নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এপ্রিলে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না হওয়া, সম্প্রতি মুদ্রা বিনিময় হারে অদৃশ্য চাপ, ব্যাংক রেজুলেশন আইনে বিশেষ ধারা আরোপ করা, রাজস্ব আদায়ে অগ্রগতি না থাকা—এসব বিষয়ে বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে গত ১৩ এপ্রিল শুরু হয় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক, যা শেষ হয় গতকাল শনিবার। এ বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল যোগ দিয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বর্ধিত ঋণসহায়তার বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো ইতিবাচক। আইএমএফের পাশাপাশি অন্য সংস্থাগুলো হচ্ছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা), ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ইত্যাদি। বর্ধিত ঋণসহায়তা বা প্যাকেজের আকার হতে পারে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশকে সহায়তা করার ব্যাপারে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি—সবার দৃষ্টিভঙ্গিই ইতিবাচক। আমরা একটা প্যাকেজ আশা করছি এবং প্যাকেজের আকার কী হবে, সে জন্য অপেক্ষা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো বিএনপির অর্থনৈতিক ইশতেহার সম্পর্কে অবগত। আলোচনা চলছে, আরও আলোচনা হবে। আইএমএফের দল ঢাকায় আসবে। আমরা আশা করছি, একটা বর্ধিত প্যাকেজ পাব।’

আইএমএফের ঋণ স্থগিতের খবর অসত্য: আইএমএফের ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিতের খবর অস্বীকার করেছে সরকার। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজার পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের খবর ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আইএমএফের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছে। দুটি বৈঠকই ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যাংক-আর্থিক খাতে সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। কিছু বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে সরাসরি জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী। কিছু ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মতামত একরকম হয়নি। তবে উভয় পক্ষই আলোচনা চলমান রাখতে সম্মত হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, আলোচনার মধ্য দিয়ে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হবে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  উচ্চাভিলাষী   সংস্কার   সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close