মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাপনায় কেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফাংশন প্রয়োজন
ড. শাহ জে মিয়া
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার কৃষি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছে। এ প্রজেক্টগুলো বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা আরও সুসংহত এবং গণমানুষের কল্যাণে সরাসরি সম্পৃক্ত। যেমন নারীদের ক্ষমতায়নে, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রায় ২ থেকে ৪ কোটি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের নারী প্রধানদের প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। 

এর পাশাপাশি, কার্ডধারীরা টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারছেন। এ ছাড়াও দেশের স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে এ বছরের জুনের মধ্যে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রজেক্টের আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশের গণমানুষের কাছে সরকারের সাহায্য সহযোগিতা খুব সহজেই পৌঁছে দেওয়া, যাতে করে সমাজ থেকে আর্থিক বৈষম্য দূর করা যায়। 

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড এবং শেয়ারেবল হেলথ রেকর্ড কার্ডের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে, যার ফলে সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের চিকিৎসকরা রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস এবং ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সহজেই দেখতে পারবেন। 

কৃষি খাতকে আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের সরাসরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এ সপ্তাহে পহেলা বৈশাখে (বাংলা ১৪৩৩) টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বা ‘কৃষি কার্ড’-এর উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ডিলারদের পিওএস (চঙঝ) মেশিনের মাধ্যমে সহজে কৃষি উপকরণ কেনার সুযোগসহ মোট ১০টি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। 

আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বিজ্ঞানভিত্তিক এসব কর্মপ্রণালি নির্বাচনি মেনিফেস্ট এবং ৩১ দফার অংশ হিসেবে জাতির সামনে নিয়ে এসেছে এবং যা এক এক করে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করে যাচ্ছে। যাহোক, এই কার্ড সিস্টেমসগুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে, একাধিক সরকারি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান কর্মসূচির বিশাল তথ্যভান্ডারকে একক কাঠামোর মাধ্যমে কোনো ধরনের ত্রুটি ছাড়াই নিরাপদে পরিচালনা ও সমন্বয় করার যোগ্যতা আমাদের অর্জন করতে হবে। এবং এর জন্য আমাদের প্রয়োজন একটি শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো ও স্থায়ী প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা। 

এ অবকাঠামোটির  মাধ্যমে আমরা ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক পরিষেবা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন আন্তঃসংযোগ বা ডাটা যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পারব। আর যদি এটা করতে পারি তাহলে, নাগরিকদের কাছে সরাসরি ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সেবা পৌঁছে দিতে পারব এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে ডেটার গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারব। 

বলে রাখতে চাই যে, আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী এই কার্ডগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি, সুনির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক এবং স্বাস্থ্যগত সুবিধা প্রদান করবে। যেমন স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড নারী-প্রধান পরিবারগুলোকে সরাসরি প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার নিয়মিত নগদ অর্থ প্রদান করে। যা কিনা নারীদের আর্থিকভাবে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে, শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা পালন করবে এবং পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে। 

কৃষক কার্ড বার্ষিক ২,৫০০ টাকার নগদ প্রণোদনা, ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ, সহজ শর্তে ঋণ, শস্য বীমা এবং আবহাওয়ার আপডেট প্রদান করছে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দূর করে সরাসরি কৃষকদের ক্ষমতায়ন করবে। ই-হেলথ কার্ড ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড ব্যবহার করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (ঘওউ) সঙ্গে যুক্ত একটি অনন্য ব্যক্তি বিশেষের স্বাস্থ্যের বর্ণনা তৈরি করবে যা ডাক্তাররা ব্যবহার করবে। এটি দেশের যে কোনো প্রান্তের ডাক্তারদের তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস এবং ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট দেখার সুযোগ করে দিবে।

এই ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার সংবেদনশীল পারিবারিক ডেটা সুরক্ষিত রাখতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের দিকে এবং শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা এবং প্রযুক্তিগত সুরক্ষার ওপর অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে। এ কার্ডগুলোর পরিচালনাকারী স্থায়ী সিস্টেম তৈরি করতে হলে সম্মিলিত ডাটা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি, যেমন হেলথ-ব্রিজ প্ল্যাটফর্ম এবং সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম, শক্তিশালী (এপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস), গোপনীয়তা প্রোটোকল এবং সম্মতি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একসঙ্গে করা দরকার হবে। 

এক্ষেত্রে একটি বিকেন্দ্রীভূত, যুক্ত রেজিস্ট্রির মাধ্যমে, সরকারকে খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন ডেটাবেসগুলোতে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোকে কমাতে পারবে। জালিয়াতি প্রতিরোধে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের আধুনিক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্বাচন এবং ঘরে ঘরে গিয়ে যাচাই করতে হবে যাতে স্থানীয় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভুল ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায়। 

এই কর্মসূচিগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল আর্থিক পরিষেবা যেমন বিকাশ, নগদ এবং রকেটে সরাসরি জিটুপি ডিজিটাল ট্রান্সফার ব্যবহার শুরু করেছে। এক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল লেনদেনের সহজলভ্য গ্রহণীয় প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে যাতে দুর্নীতিবাজ মধ্যস্বত্বভোগীরা এখানে সুবিধা ভোগ করতে না পারে। এখানে আমাদের একটি নতুন অল্টারনেটিভ নাগরিকদের জন্য একটি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ রয়েছে।

কিউআর-কোডযুক্ত স্মার্ট কার্ড, বায়োমেট্রিক ক্রস-চেকিংয়ের ব্যবহার এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যেন, সুবিধাগুলো কোনো ‘ভুতুড়ে’ বা অস্তিত্বহীন সুবিধাভোগী দাবি করতে না পারে অথবা একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির মাধ্যমে কেউ দ্বৈত সুবিধা নিতে না পারে।

আমাদের এই কার্ড ব্যবস্থাপনার উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলন, ইউএনডিপি, বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের নকশা সফল আন্তর্জাতিক সামাজিক সুরক্ষা মডেলগুলোকে প্রতিফলিত করতে হবে। 

প্রযুক্তিগতভাবে, বাংলাদেশ তার এপিআই ফ্রেমওয়ার্ক, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড এবং ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেমগুলোকে তৈরি করতে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করা উচিত হবে না, যাদের পূর্বে বাস্তবায়িত প্রকল্পে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন অনুশীলনের ঘাটতি ছিল। যাহোক, এর কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াগুলোও সরাসরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের কাজ করতে হবে।

বর্তমান বাস্তবতায়, এই কার্ডগুলো ২৫টি ভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে থাকা ৯৯টি খণ্ডিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিকে একটি সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম এবং ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রির অধীনে একীভূত করা প্রয়োজন, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করবে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে নাগরিকদের অন্তহীন ম্যানুয়াল কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশাসনিক ডেটা, যেমন টিআইএন তথ্য, জমির রেকর্ড, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং এনআইডি ডাটাবেস থেকে নিয়ে আসতে এবং ক্রস-চেক করে গতিশীলভাবে যোগ্যতা যাচাই করতে পারবে। 

এ ছাড়াও, প্রথাগত ব্যাংকিং বাধাগুলো এড়িয়ে জিটুপি পেমেন্ট সরাসরি মোবাইল ওয়ালেটে পাঠানোর মাধ্যমে, এ কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের নগদবিহীন (ক্যাশলেস) অর্থনীতিতে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা লাখ লাখ নাগরিককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক খাতে নিয়ে আসবে, যা ব্যাপক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সাক্ষরতাকে উন্নীত করবে।

উপরে উল্লেখিত, এই আধুনিক এবং বিকেন্দ্রীভূত ফ্রেমওয়ার্ক এর  আর্কিটেকচারটি মূলত ব্লকচেইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মাইক্রোসার্ভিস অর্কেস্ট্রেশনের একটি সমন্বিত রূপ হতে পারে। যা দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনয়ন করে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এটি কে কোনো সাধারণ সিস্টেম হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং একটি স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক এবং বহুমুখী ডাটা সমাধান কাঠামো যা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গণ-মানুষের জাতীয় সম্পদ সুষমভাবে বণ্টন পরিচালনা করতে সক্ষম করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।  

আগেই বলে এসেছিলাম যে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ধারায় হাই টেক প্রযুক্তির সংহতকরণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে স্বনির্ভরতার বাংলাদেশ দর্শন এবং বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে এই স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক সিস্টেমের গভীর কৌশলগত মিল রয়েছে। 

আমরা এখানে একটি সাধারণ ডাটাবেজ বা ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসের বাইরে যেয়ে, এটি একটি অত্যাধুনিক এবং বহুমুখী সিস্টেমসের কাঠামো যা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাতীয় সম্পদ ও পরিচয় সুষমভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। যারা প্রযুক্তি ভালোবাসেন এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়ে আগ্রহী, তাদের জন্য নিচে এই সিস্টেমের কারিগরি দিক এবং তথ্য প্রবাহের প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

‘অরকেস্ট্রেশন হাব’ শব্দটি সাধারণত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একাধিক জটিল কাজ বা পরিষেবাকে একটি কেন্দ্রীয় জায়গা থেকে পরিচালনা ও সমন্বয় করার ব্যবস্থাকে বোঝায়। এটি কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা প্ল্যাটফর্মের নাম হতে পারে যা বিভিন্ন ‘এজেন্ট’ বা সার্ভিসকে একসঙ্গে কাজ করতে সাহায্য করে। যা হোক, এই আর্কিটেকচারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন পরিচয় নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক এবং ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে প্রতিটি স্তরে নিরাপদ পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্যের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্লকচেইন বা ডিএলটি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কোনো তথ্য পরিবর্তন বা জালিয়াতি করা অসম্ভব হয়। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিগ ডাটা জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ প্রদান করছে। এপিআই অর্কেস্ট্রেশন ও মাইক্রোসার্ভিসগুলো মূলত মোবাইল এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনসহ সিস্টেমের সব ইন্টারঅ্যাকশনের জন্য একটি একক প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করছে। পুরো কার্ড ম্যানেজমেন্ট আর্কিটেকচারটিকে বেশ কিছু বিশেষায়িত লেয়ারে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমেই রয়েছে পরিচয় অংশ বা লেয়ার।  বায়োমেট্রিক আইডেন্টিটি লেয়ার দ্বারা পরিচালিত এই লেয়ারটি বায়োমেট্রিক তথ্যের নিরাপদ স্টোরেজ এবং প্রমাণীকরণ পরিচালনা করে। নিরাপত্তার জন্য এখানে একাধিক আধুনিকপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে মূল তথ্য ফাঁস না করেই পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। 

তারপর রয়েছে ঠিকানা লেয়ার, এটি ব্যক্তিগত তথ্য এবং আবাসিক ঠিকানা ব্যবস্থাপনা করে। এর পরে রয়েছে আর্থিক ও ব্যবস্থাপনা মডিউল ভান্ডার। ভান্ডার হলো এই সিস্টেমের ‘মস্তিষ্ক’, যা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে যুক্ত করে। জাতীয় আর্থিক তহবিল ব্যবস্থাপনাই ভান্ডারের প্রধান কাজ। এটি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের সঙ্গে যুক্ত করবে। 

সংগৃহীত আদমশুমারির তথ্য এবং এআই লেয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এটি সম্পদের সুষম বণ্টনের পরিকল্পনা করে এবং এটি এই আদমশুমারির ডাটা এবং ‘বুদ্ধিমান’ লেয়ারের বিশ্লেষণ ব্যবহার করে সম্পদের সুষম বণ্টনের পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে বাজেট তৈরি করে এটি সরাসরি ‘হালখাতা’ লেয়ারে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তী যে লেয়ারটি রয়েছে তার নাম হালখাতা যা কার্ড লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সরাসরি মানুষের হাতে থাকা ফ্যামিলি কার্ড এবং জাতীয় লেনদেনের হিসাব পরিচালনা করবে। কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পঞ্চম লেয়ার হলো বাজার। এই পেমেন্ট ম্যানেজমেন্ট লেয়ারটি ডিজিটাল সিস্টেম এবং বাস্তব জগতের কেনাকাটার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এটি সিস্টেমের সঙ্গে সাধারণ বিক্রেতা ও ব্যাংকের সংযোগ ঘটায়। 

সর্বশেষ লেয়ারটির নাম হলো বুদ্ধিমান: বিগ ডাটা ও এআই ইঞ্জিন এটি পুরো আর্কিটেকচারের বুদ্ধিবৃত্তিক অংশ এবং এটি পুরো আর্কিটেকচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইঞ্জিন। এটি সিস্টেমের প্রতিটি প্রান্ত থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিগ ডাটা এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এখানে তিন ধরনের অ্যানালিটিক্স কাজ করে। ডেসক্রিপটিভ এনালিটিক্স, যা অতীতে কী ঘটেছে তা বিশ্লেষণ করে। 

প্রেডিক্টিভ এনালিটিক্স, যা ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা আগে থেকে বলে দেয়। এবং প্রেসক্রিপটিভ এনালিটিক্স, যা সবচেয়ে ভালো ফলাফল পেতে এখন কী করা উচিত তার পরামর্শ দেয়।  এই আর্কিটেকচারটি তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। জিরো-নলেজ প্রুফ ব্যবহারকারীকে তার আসল তথ্য প্রকাশ না করেই পরিচয় প্রমাণের সুযোগ দেয়। 

ডিএলটি প্রযুক্তি তথ্যের কারচুপি রোধে একটি শক্তিশালী মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে, যা লেনদেনের ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করা অসম্ভব করে তোলে । ৩১ দফার ১৩ নম্বর দফায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এবং ১৫ নম্বর দফায় অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির সংহতকরণ সরকারি দপ্তরের ফাইলের স্তূপ কমাতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সক্ষম। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখছেন, তার মূলে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা এবং আইসিটির আধুনিকায়ন। বর্তমানে আইসিটি শিক্ষা কারিকুলামগুলো আধুনিকায়ন ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের ভালো করার বহুমুখী সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রতিযোগিতামূলক যুগে টিকে থাকা এবং এ সম্পর্কিত কার্যকরী উন্নয়ন সহজ  হবে। এজেন্টিক এআই তরুণ ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্যোক্তাদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে যেখানে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবে। 

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে এবং শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তিকে রাষ্ট্রীয় প্রশিক্ষণের অংশ করা অপরিহার্য। এই কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, এটি সুশাসনের একটি নতুন ব্যবস্থাপনার অংশ। এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে একটি নিষ্ক্রিয় আমলাতান্ত্রিক কাঠামো থেকে একটি সক্রিয়, চটপটে এবং জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার শক্তি রাখে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি এক নতুন দিগন্ত।
 
লেখক : প্রফেসর অফ বিজনেস এনালিটিক্স এন্ড অ্যাপ্লাইড এআই
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া 
উপদেষ্টা, বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের বহিঃবিশ্বে শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী এক্সপার্টিজ গ্রুপের সদস্য

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close