মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
জ্বালানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট শুধু একটি সরবরাহ সংকট নয়, এটি স্পষ্টভাবে একটি নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার প্রতিফলন। যখন পেট্রোলপাম্পে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছে না, তখন একই সময়ে দেশের ভেতরে উৎপাদিত অকটেন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ।

এই বাস্তবতা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি করেছে, যা সরকারের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে অকটেনের মজুত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে ডিপোগুলোতে জায়গা নেই। কিন্তু এই যুক্তি জনদুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। 

কারণ সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে প্রশ্নটি খুব সরল: “তেল যদি থাকে, তাহলে পাম্পে নেই কেন?” এর উত্তর সরবরাহ ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে আসে। এখানে মূল সমস্যা দেখা যাচ্ছে সমন্বয়ের অভাবে। উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের মধ্যে কার্যকর পরিকল্পনা না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবেই। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ চাহিদা যখন স্থানীয়ভাবে পূরণ হয়, তখন সেই উৎসকে উপেক্ষা করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল। এটি শুধু সরবরাহ সংকটকে তীব্র করে না, বরং দেশীয় শিল্পকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে যুক্তিগুলো দেওয়া হচ্ছে যেমন অতিরিক্ত মজুত, ডিপোর অভাব, বা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এসবের কোনোটিই নতুন নয়। এগুলো পূর্বানুমানযোগ্য বাস্তবতা। তাহলে প্রশ্ন আসে, আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি কেন? কেরোসিনের ট্যাংককে অকটেন সংরক্ষণের উপযোগী করার উদ্যোগ কেন সময়মতো বাস্তবায়ন করা গেল না? সরকার যদি একদিকে বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রির কারণে লোকসানের যুক্তি দেয়, অন্যদিকে আবার বাজারে সংকট তৈরি করে, তাহলে তা নীতিগত দ্বৈততা হিসেবে দেখা দেয়। এর ফলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে, অন্যদিকে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছে। 

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো জনমনে অনাস্থা তৈরি হওয়া। যখন মানুষ সরকারি ব্যাখ্যায় আস্থা হারায়, তখন গুজব, আতঙ্ক ও মজুতদারির প্রবণতা বেড়ে যায় যা সংকটকে আরও গভীর করে। সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার টন পেট্রোল-অকটেন এবং ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল সুপার পেট্রোকেমিক্যালকে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৮ এপ্রিল থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলো তেল নেওয়া বন্ধ করে দেয়। 

ফেব্রুয়ারিতে একটি জাহাজ আসার পরও বিপিসি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেল গ্রহণ করেনি, যার ফলে মার্চে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ২০ এপ্রিল কাঁচামাল নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, কিন্তু ট্যাংক খালি না হলে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। ফলে এই মুহূর্তে দোষারোপ নয়, চাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ। দেশীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অবিলম্বে পুনরায় শুরু করতে হবে। সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনগণ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়। 

সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার  হলো, জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। সংকট তৈরি হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়, বরং আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়াই হওয়া উচিত ছিল। জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে যে আন্তরিকতা এবং কর্ম পরিকল্পনার দরকার ছিল সেটির যে ঘাটতির প্রভাব সার দেশে পড়েছে। ফলে এখনই সময়, বাস্তবতা স্বীকার করে কার্যকর ও জনমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  জ্বালানি সরবরাহ   অব্যবস্থাপনা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close