সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির চাপ মোকাবিলায় চাই সমন্বিত পদক্ষেপ
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ব্যয় বেড়েছে পরিবহন, কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ প্রায় সব খাতেই। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে সরকার বলছে “সীমিত সমন্বয়”, কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। 

এই সিদ্ধান্তের ঢেউ ইতোমধ্যেই বাজার, পরিবহন, কৃষি, শিল্প- সবখানে গিয়ে লেগেছে। ফলে যে চাপ কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ, সেটিই উল্টো আরও বিস্তৃত হয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলবে। সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। ভাড়া বাড়ানোর দাবি উঠেছে, আর সেই দাবি বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের দামে গিয়ে পড়বে। 

বাংলাদেশে পণ্যের দামের সঙ্গে পরিবহন খরচের সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ যে, ডিজেলের দাম বাড়লেই বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়। ইতোমধ্যেই সবজি, ডিমসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। এই অবস্থায় মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফনের ঝুঁকি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কৃষি খাতের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সেচ, ফসল পরিবহন, যন্ত্র চালনা- সবই ডিজেলনির্ভর। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়বেন, অন্যদিকে ভোক্তার ব্যয় বাড়বে। এই দ্বিমুখী চাপ খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। একই ঝুঁকি রয়েছে মৎস্য খাতেও নদী কিংবা সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে যে খরচ হয় সেটির একটি বড় অংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। 

শিল্প খাতের চিত্রও খুব ভিন্ন নয়। জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো দাম বাড়াতে পারছে না। ফলে মুনাফা কমছে, বিনিয়োগে ধীরগতি আসছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে আবার সেই বাড়তি খরচ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। 

সরকার বলছে, বিশ্ববাজারের চাপ সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং ভর্তুকিও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই ভর্তুকির কার্যকারিতা কতটা এবং তা কতদিন ধরে রাখা সম্ভব? শুধু দাম বাড়িয়ে এবং আংশিক ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না, যদি না সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার তদারকি এবং নীতি সমন্বয় একসঙ্গে করা হয়। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। হঠাৎ করে মূল্য সমন্বয় না করে ধাপে ধাপে সমন্বয়ের পথ নেওয়া যেত। 

পাশাপাশি, বাজারে যাতে কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি জরুরি। মজুতদারি ও কারসাজি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির দিকে গুরুত্ব বাড়ানো এখন আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। গ্যাস সংকট, আমদানি নির্ভরতা-এসব সমস্যা মাথায় রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর না হলে এমন চাপ বারবার ফিরে আসবে। 

নীতিনির্ধারণে মানুষের বাস্তব জীবনের চাপকে কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। কাগজে-কলমে “সীমিত” যা, বাস্তবে তা অনেকের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে। সিদ্ধান্ত যদি মানুষের স্বস্তি না বাড়ায়, বরং উদ্বেগ বাড়ায়- তাহলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close