কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘কথার আম্মুর ভাতের হোটেল’ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা গ্রাহকরা।
জানা গেছে, প্রায় ৮ মাস আগে উপজেলার বড় আজলদী গ্রামের কাদির মিয়ার স্ত্রী লাকী আক্তার তার মেয়ের নামে ব্যতিক্রমধর্মী এ হোটেলটি চালু করেন। পৌরসদরের নতুন বাইপাস সড়কের পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর সড়কের ডান পাশে মাচা দিয়ে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হয়। মাত্র ১০০ টাকায় এক বাটি গরুর মাংসের সঙ্গে আনলিমিটেড ভাত ও ডালের ব্যবস্থা থাকায় অল্প সময়েই হোটেলটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভিড় জমাতে থাকেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে অল্প সময়েই হোটেলটির দুইটি শাখা চালু করা হয়। পরে ভাড়া দোকানে বড় পরিসরে ব্যবসায় শুরু করেন লাকী আক্তার।
শুরুর দিকে ছোট জায়গায় দুইটি টেবিলে একসঙ্গে ১০-১২ জন বসে খেতে পারতেন। অনেককেই বাইরে অপেক্ষা করতে হতো। লাকী আক্তার নিজে খাবার পরিবেশন করতেন এবং তার স্বামী কাদির মিয়া রান্না ও অন্যান্য কাজে সহায়তা করতেন। অতিরিক্ত ক্রেতার চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হতো। সর্বশেষ তিনজন কর্মচারী দিয়ে হোটেলটি পরিচালনা করা হচ্ছিল।
তবে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে লাকী আক্তার জানান, তিনি আর হোটেলটি চালাবেন না।
এতে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়—কেন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল জনপ্রিয় এই হোটেলটি।
আরিফুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘পাকুন্দিয়ায় গেলে প্রায়ই এখানে খেতাম। হঠাৎ বন্ধ দেখে খুব খারাপ লেগেছে। আবার চালু হলে অনেকের উপকার হবে।’
হোটেলের মালিক লাকী আক্তার বলেন, ‘শুরু থেকেই ভালো সাড়া পেয়েছি। প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ জন ক্রেতা আসতেন এবং দৈনিক ৭০০০-৮০০০ টাকা আয় হতো। আমার ব্যবসায় ভালো চলতে দেখে স্থানীয় মোবারক নামে প্রভাবশালী ব্যক্তি আমার দোকানের সামনে আরেকটি দোকান দেন এবং আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালান। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তাই হোটেলটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
অন্যদিকে অভিযুক্ত মোবারক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এমন কিছু করিনি। শুনেছি, কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারায় তিনি নিজেই হোটেল বন্ধ করেছেন।’
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, ‘হোটেলটি বন্ধ হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানতে পেরেছি। ওই নারী নিজে আমার কাছে এসে বিষয়টি জানালে, আমি তাকে আশ্বস্ত করি এবং আমার পূর্বনির্ধারিত কাজ শেষে পিআইওসহ সরেজমিনে পরিদর্শনে যাই। সেখানে গিয়ে পাশের দোকানের পক্ষ থেকে করা অভিযোগগুলো যাচাই করি, তবে সেগুলোর কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
রুপম দাস আরও বলেন, ‘হোটেলটি পুনরায় চালু করার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। তবে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি আর হোটেলটি চালাতে ইচ্ছুক নন। যদিও কী কারণে তিনি এই অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।’
কেকে/এমএ