মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
হঠাৎ উত্তপ্ত শিক্ষাঙ্গন
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৫ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। বিভিন্ন ইস্যুতে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে ঘটছে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা। কোথাও গুলিবর্ষণ, কোথাও রামদা ও চাপাতি হাতে আক্রমণ; আবার কোথাও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হচ্ছেন উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আর এসব ঘটনায় বিরাজ করছে উত্তেজনা। উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের শিক্ষাঙ্গন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে থানার ভেতর ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। থানার ভেতরে আটকা পড়েন ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়েরও।

এর আগে ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি ও জাইমা রহমানকে কটূক্তির প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। হামলার মুখে থানার ভেতরে আশ্রয় নেন ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও জুবায়ের। ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভিও শাহবাগ থানার ভেতরে অবস্থান নেন। অন্যদিকে বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ : একই দিনে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পৃথকভাবে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কলেজ গেটের সামনে ছাত্রদলের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি সজিব হাসান দাবি করেন, কলেজে তাদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। এ জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছিলেন এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে শহরের বকুলের মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কলেজ গেটের সামনে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। ছাত্রদলের কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি জানান, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা নেই।

অন্যদিকে ছাত্রদলের কলেজ শাখার সহসভাপতি ইমরান হোসেন খানের দাবি, কলেজে তাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ১০০-১৫০ জন শিবিরকর্মী বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় তারা মারধর করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পাশাপাশি ছাত্রদলের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদূর রহমান জানান, চট্টগ্রামের ঘটনায় শিবির কর্মসূচির ডাক দেয়। তার অংশ হিসেবে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কলেজ গেটে পৌঁছালে ক্যাম্পাসে থাকা ছাত্রদল কর্মীরা এগিয়ে আসে। এ সময় উভয় দলের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। তবে উভয় পক্ষই ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আমজাদ হোসেন জানান, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল তাদের কর্মসূচি পালনের অনুমতি নিয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয় শুনেছি। তবে কলেজ ক্যাম্পাসে কোনো অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। উভয় সংগঠনকে জানানো হয়েছে, কলেজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অচিরেই বৈঠক করা হবে।

‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে সংঘর্ষ : এর আগে চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেখা গেছে। ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুপক্ষই দাবি করে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, একটি গ্রাফিতির নিচে আগে লেখা ছিল— ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। গত সোমবার কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। পরে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। আজ সকাল থেকেই বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। উভয় পক্ষই হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রাফিতির লেখা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ডাকা হয়। পরে কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

দুপুরের পর কিছুটা শান্ত হলেও পরে ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আবার উত্তেজনা ছড়ায়। বিকেল চারটার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড় থেকে শিবিরের মিছিল কলেজের দিকে এলে সিটি কলেজের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে তাদের অবস্থান দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম নাইট কলেজ নামে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাস কয়েক দশক ধরে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসটি রাজনীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সে বছর কমিটি দেয় ইসলামী ছাত্রশিবির। আগে কমিটি থাকলেও ৫ আগস্টের পর সক্রিয় হয় ছাত্রদলও। ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব রয়েছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  শিক্ষাঙ্গন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close