সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার জহিরপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট থাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। কিন্তু এখানে নিয়মিত কোনো চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেক সময় রোগীরা এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো চিকিৎসক নেই। দুইজন সেবিকা দিয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। লোকবলের অভাবে প্রায় সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্টাফেরও তীব্র অভাব রয়েছে। এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা হিমশিম খাচ্ছেন। জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগীরা জানান, সামান্য চিকিৎসার জন্যও তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ—দুটিই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে বিশেষ করে বয়স্ক ও দরিদ্র রোগীরা বেশি কষ্টে পড়ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাক্তার না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সমস্যা চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, “উপজেলার প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জনবল শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে তালিকা আকারে প্রেরণ করা হয়েছে।’’
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কেকে/এলএ