সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
স্কুল ফিডিং (মিড-ডে মিল) প্রকল্প
বাচ্চাদের খাবার নিয়ে অবহেলা কাম্য নয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল ফিডিং (মিডডে মিল) প্রকল্প। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো শিশুদের এ ফিডিং প্রকল্পেও দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফিডিং প্রকল্পের দুর্গন্ধযুক্ত অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। সরবারহকারীদের লোভের খেসারত দিচ্ছে শিশুরা। 

গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিলের খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের শংকরবাটিই না দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে একের পর এক অভিযোগ আসছে পচা কলা, নিম্নমানের ডিম, দুর্গন্ধযুক্ত খাবারের। 

কিছুদিন পরপরই শোনা যাচ্ছে, এসব খাবার খেয়ে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বমি করছে, পেট ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। ভাবতে খারাপ লাগে, যে খাবার তাদের শক্তি দেওয়ার কথা, সেটাই তাদের অসুস্থ করে দিচ্ছে। এটা কি শুধুই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা  হবার কারণ নেই। কারণ এক-দুই জায়গা নয়, একাধিক জেলায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এর মানে কোথাও না কোথাও বড় ধরনের সমস্যা আছে। হয়তো সরবরাহ ব্যবস্থায়, হয়তো তদারকিতে, অথবা দুটোতেই। 

বাস্তবতা হলো, ডিম, দুধ বা কলার মতো খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সেই মৌলিক বিষয়টুকুও যদি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এমন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে আরও প্রস্তুতি দরকার ছিল না? শুধু খাবার পাঠালেই তো দায়িত্ব শেষ হয় না, সেটার মান ঠিক আছে কিনা সেটিও  দেখতে হবে। 

আরেকটা বিষয় খুব চোখে পড়ে জবাবদিহিতার অভাব। অভিযোগ ওঠার পর হয়তো কোথাও জরিমানা হচ্ছে, সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতে সমস্যার মূলে কি হাত দেওয়া হচ্ছে? যারা বারবার নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে, তারা কীভাবে আবার সুযোগ পাচ্ছে? ফলে এ প্রকল্পকে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। সব জায়গায় একই ধরনের পচনশীল খাবার দেওয়ার বদলে বিকল্প কিছু ভাবা যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়ানো দরকার।
 
শিক্ষক-অভিভাবকদেরও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। অন্তত তারা সরাসরি দেখে বুঝতে পারবেন, বাচ্চারা কী খাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এ বিষয়টাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে যারা আছে, তারা ছোট বাচ্চা। তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার অধিকার কারও নেই। 

স্কুল ফিডিং এর মতো একটি সংবেদনশীল প্রকল্পে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সক্ষমতা ছাড়া শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার ফল এখন শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ কর্মসূচি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হবে। 

স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য যে উদ্যোগ, সেটাই যদি উল্টো ভয় আর অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সেটাকে সফল বলা যায় না। এখন দরকার দ্রুত, কঠোর আর বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। না হলে এই ভালো উদ্যোগটাই ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা হারাবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close