কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় একটি পার্সেল খুলতেই বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসির শেখ (৫০) নামের এক ভ্যানচালক আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার লাহিনী বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যাটারিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত নাসির শেখ লাহিনী কর্মকারপাড়ার বাসিন্দা বাহের শেখের ছেলে। বর্তমানে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি ভ্যানচালক নাসিরকে ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে একটি ব্যাগভর্তি পার্সেল লাহিনী জোয়ার্দারপাড়ার বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলেন। পার্সেলটি নিয়ে নাসির হামিদুলের বাড়িতে গেলে তিনি সেটি নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পার্সেলটি নিয়ে নাসির আবার লাহিনী বটতলা এলাকায় ফিরে আসেন।
এ সময় একটি ফলের দোকানের সামনে স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে পার্সেলটি খোলা হয়। ভেতরে একটি কাঠের বাক্স দেখতে পেয়ে সেটি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নাসির শেখ আহত হন এবং পাশের একটি ফলের দোকানের ফ্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আহত নাসির শেখ বলেন, যে দুইজন আমাকে পার্সেলটি পৌঁছে দিতে বলেছিল, তাদের আমি চিনি না। তারা নিজেদের গাড়ির চালক পরিচয় দিয়েছিল। হামিদুল ইসলামও একজন চালক। তারা একে অপরকে চেনেন বলেই জানিয়েছিল। উপস্থিত সবার সামনেই পার্সেলটি খোলা হয়েছিল, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।
হামিদুল ইসলাম বলেন, রাতে নাসির আমার বাড়িতে এসে একটি পার্সেল আছে বলে ডাকাডাকি করেন। আমি কোনো পার্সেল অর্ডার করিনি এবং কে পাঠিয়েছে তাও জানি না। তাই আমি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাই। তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিচিত দুই ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্প্লিন্টারজাতীয় কিছুর আঘাতে তার শরীরের নিম্নাংশে ক্ষত হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিস্ফোরণে একজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস