রাজশাহী খাদ্য বিভাগে মাঠ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বদলি নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে বিভাগটির অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের এলএসডি, সিএসডি ও সাইলোগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন স্থগিত সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ থাকা সত্ত্বেও রাজশাহীর তানোর উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের মধ্যে দুই কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি স্মারক (নম্বর: ১৩.০০.০০০০.০০০.০২২.৯৯.০০০১.২৬.১৫) অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অবসর, মৃত্যু বা জরুরি স্বাস্থ্যগত কারণে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে এর মধ্যেই তানোর উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মকুল টুডুকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (ডিসিফুড) কার্যালয়ে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে ন্যস্ত করা হয় এবং একই সঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক আফরোজাকে তানোর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই বদলি প্রক্রিয়া নির্ধারিত স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভাগে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
তানোর গুদামের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফরোজা বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়মেই বদলি হয়েছে।’
অন্যদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহন আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (আরসি ফুড) মহোদয় ভালো বলতে পারবেন।’
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন বলেন, ‘অফিস আদেশ আসার আগেই তাদের বদলি করা হয়েছে। অডিট ও বস্তার প্রয়োজনে বদলি করা হয়, এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হলো এবং এতে কোনো নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে কি না।
বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, মাঠ প্রশাসনের বদলি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অতীতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
তবে এবারের ঘটনায় বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কেকে/এমএ