ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় উপজেলা পরিষদে ‘বসার কক্ষ’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যে সব এমপির উপজেলায় দলীয় কার্যালয় নেই, তাদের জনসংযোগের জন্য একটি বসার স্থান একান্ত জরুরি। উপজেলা পরিষদে এমপিরা মাঝেমাঝে উপস্থিত থাকলে জনসেবার সাথে জড়িত কৃষি সম্প্রসারণ, জনস্বাস্থ্য, পশু চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, পরিকল্পনা এবং আইন ও শৃঙ্খলাসহ অন্যান্য সংস্থার সেবার মান এবং পরিধি বাড়বে ও উপজেলার জনগণ উপকৃত হবেন।
তাছাড়া উপজেলায় কার্যরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বিভিন্ন সুবিধাবাদী মহলের অনৈতিকভাবে সুবিধা গ্রহণের জন্য চাপ কমে যাবে এবং তারা সুষ্ঠু ও নিরাপদে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করতে পারবেন। এমনকি প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং আইন ও শৃঙ্খলার অবনতিসহ জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে এমপির উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের ফলে সমাধানের আশু ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।
উপজেলার জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে সরাসরি তাদের অভাব-অভিযোগ, উন্নয়ন ও প্রত্যাশা উপস্থাপন করার সুযোগ এবং এর প্রতিকার নিশ্চিত করতে পারলে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি মানুষ হারানো আস্থা ফিরে পাবে, সহনশীলতা বাড়বে, সামাজিক অস্থিরতা ও বৈষম্য কমবে এবং এলাকায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
তবে, সংশ্লিষ্ট এমপিদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন উপজেলা পরিষদে তাদের বসার জন্য প্রদত্ত পরিদর্শন কক্ষটি নিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের অবাধ বিচরণভূমিতে পরিণত না হয়। অন্যথায় প্রদত্ত সুবিধা প্রদানের ফলে জনগণের উপকার তো হবেই না, বরং এমপিদের মূল্যবান সময়ের শুধু অপচয় হবে এবং বর্তমান সংসদ অনুরূপ সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনার মুখোমুখী হবে। আমরা আশাবাদী প্রদত্ত সুবিধাটি জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
আমি এনসিপির সাংসদ আতিকুর রহমানকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সংসদে উপস্থাপন করার জন্য এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ্ আলমকে প্রস্তাবটি কার্যকর করার আশু ব্যবস্থা গ্রহণে ভূমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কেকে/এমএ