মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      ভূমিকম্পে কাঁপলো রাজধানী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
উগ্রবাদ রোধে চাই পরিকল্পিত উদ্যোগ
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দক্ষিণ এশিয়ায় সমাজের বিভিন্ন স্তরে উগ্র মৌলবাদ এখন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা। এ মৌলবাদ চরমবাদে এবং চরমবাদ জঙ্গিবাদে রূপ নিচ্ছে। এ  জঙ্গিবাদ এবং জঙ্গিবাদের সম্ভাব্য উত্থান এ অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সভ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। 

রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জঙ্গিবাদ বিস্তারের পরিধির তারতম্য থাকলেও এর পিছনে রাজনৈতিক ভূমিকা প্রায় একই। অপরাজনীতির কারণেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো সমাজে জঙ্গিবাদের শিকড় খুব গভীরে। বাংলাদেশেরও এ প্রভাবটি  কম নয়, দেশের অভ্যন্তরে বিগত শাসানমলের বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হামলা এটিই প্রমাণ করে। 

সম্প্রতি দেশে জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের হামলার আশঙ্কা আবারও জনমনে সেই পুরোনো উদ্বেগ তৈরি করছে। 

পুলিশের সদর দপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার জারি করা ‘জরুরি ও গোপনীয়’ এক চিঠিতে দেশজুড়ে নজরদারি বাড়ানো এবং নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং গত সোমবার জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারের এই তৎপরতায় হঠাৎ করেই জঙ্গিবাদের বিষয়টি আবারো আলোচনায় উঠে আসে। 

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর কি দেশে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে উগ্রবাদ?  এই নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। গত বছর অক্টোবরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। 

বিস্ফোরণের এ ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যা জানা গেছে তা অত্যন্ত ভয়ানক, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।’ জঙ্গি হামলার এ ভয়াবহ সংকট নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের খুব একটা তৎপর হতে দেখা যায়নি। 

জঙ্গি শব্দটি বলতেই নারাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন ‘আগে সেই শব্দটা উচ্চারিত হতো ফ্যাসিবাদী আমলের সময়; তারা নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে বাংলাদেশে সেগুলোর এক্সিস্টেন্স নেই।’ তিনি ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে উগ্রপন্থি বলে আখ্যায়িত করতে চান। 

অপর দিকে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন ভিন্ন কথা, দেশে জঙ্গি আছে, সরকার এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে ‘গণঅভ্যুত্থানের পর জঙ্গিবাদের অভিযোগে জামিন পাওয়া ব্যক্তিরা সরকারের নজরদারির আওতায় আছে। পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়লে তাদের জামিন বাতিল করা হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে জঙ্গিবাদের একটা প্রবণতা আছে। কিছু মানুষ এর সঙ্গে জড়িত। মাঝে মাঝে তারা আরও বেশি অ্যাক্টিভ হওয়ার চেষ্টা করে, সেটাকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে।’ তার কথার মানে অনেকটা দাঁড়ায় জঙ্গিরা একটিভ হলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে। তার আগে নয়। জঙ্গি বা উগ্রপন্থিদের নিয়ে তাদের এই নরম সুরে কথা বলাটা উদ্বেগের। 

জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা অপরিহার্য। পলাতক জঙ্গি সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বয় এবং আন্তঃসংস্থার সহযোগিতা বাড়াতে হবে। শুধু অভিযান নয়, আগাম তথ্য সংগ্রহই হতে হবে মূল কৌশল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী যোগাযোগ বা সহানুভূতির অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে সামান্য দুর্বলতাও বড় ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। ‘অস্বীকারের সংস্কৃতি’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব বা তৎপরতা নিয়ে বাস্তবতা স্বীকার না করলে কার্যকর নীতি প্রণয়ন সম্ভব নয়। 

নীতিনির্ধারকদের উচিত, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে। তরুণদের মধ্যে হতাশা, বেকারত্ব ও বিভ্রান্তি দূর করতে কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক সম্পৃক্ততার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে। 

সন্দেহজনক ভ্রমণ, অর্থ লেনদেন ও অনলাইন যোগাযোগের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি, যাতে আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক পুনরায় সক্রিয় হতে না পারে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গিবাদ দমনে কোনো রকম দ্বিধা বা শৈথিল্য বিপজ্জনক হতে পারে। এটি দলীয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন এখানে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই একমাত্র কার্যকর পথ।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close