আজ ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। দিবসটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সত্য প্রকাশের অধিকার, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। গণতান্ত্রিক সমাজে মুক্ত গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। মানুষের অধিকার, দুর্নীতি, অনিয়ম ও সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরতে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।
বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে ২০২৫ সালে একাধিক সাংবাদিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত ৩১ জানুয়ারি রূপগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে যমুনা টিভির প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন জয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এরপর ৪ মে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় দুই সাংবাদিক মিলন বিশ্বাস হৃদয় ও ফটোসাংবাদিক হাবিব খন্দকার হামলার শিকার হন। আবার ৭ মে রূপগঞ্জে একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি রিয়াজ হোসেনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবি জানায়।
এসব ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং সত্য প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের ভয়, হামলা কিংবা হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে সমাজে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
তবুও দেশের অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশে কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো জনগণের আস্থা। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া সুস্থ গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে প্রত্যাশা—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, হামলা-হয়রানির বিচার হোক এবং সংবাদমাধ্যম তার স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারুক।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী
কেকে/ এমএস