সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
হামের বিস্তার ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা কাম্য নয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হামে মৃত্যু থামছেই না, দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। এটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নাকি স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা, সে প্রশ্নটি এখন সবার। বাংলাদেশ বিগত কয়েক দশক ধরে টিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য অর্জন করেছিল অথচ আজ, সে দেশেই হামের মতো একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। 

গত ৫০ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫২ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত এবং ২৫৯ জন উপসর্গজনিত জটিলতায় মারা গেছে, এ পরিসংখ্যান পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। সর্বশেষ গতকাল ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু এবং ১ হাজার ৩০২ শিশুর মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হওয়া স্পষ্ট করে যে, সংক্রমণের গতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, মৃত্যুর বড় অংশই শিশুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ দেশের টিকাদান কাঠামো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় কোথাও না কোথাও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যকর থাকলে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা যথাযথ হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়। 

ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক মৃত্যু ও সংক্রমণ নিবন্ধিত হওয়া জনঘনত্ব, বস্তি ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং শহরকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপের বাস্তবতাকে সামনে আনে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বরিশালেও সংক্রমণ বাড়ার ইঙ্গিত দেয় যে, এটি আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংকট নয়। 

এইচএনপিএসপি ও এর আওতায় ইপিআইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে এবং কোটি মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের প্রয়োজনীতা দেখিয়ে যেভাবে এবং বিদ্যমান টিকা কাঠামোকে বাতিল করা হয়েছে, তা ছিল অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে একটি বড় ‘ট্রানজিশনাল গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে হাজির হয়েছে। 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের জন্য কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ অপরিহার্য। জাতীয় পর্যায়ে জরুরি গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করতে হবে। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের টিকা কভারেজ দ্রুত বাড়াতে হবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

স্কুল, মাদ্রাসা ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদার করতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর, র‌্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত শনাক্ত করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে হাম ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক ইউনিট চালু করা জরুরি। 

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ও ছাড়পত্রের হার দেখাচ্ছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে আছে। পর্যাপ্ত বেড, শিশু বিশেষজ্ঞ, অক্সিজেন, ভিটামিন-এ এবং জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে মৃত্যুহার আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে দেশজুড়ে আইসিইউ সংকট হামে শিশু মৃত্যুকে প্রভাবিত করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুধু দৈনিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। কোথায় টিকার ঘাটতি, কেন এত শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, কোন জেলায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যর্থ হচ্ছে, এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। 

হাম প্রতিরোধের বিজ্ঞান বহু পুরোনো; কিন্তু ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নতুন সংকট তৈরি করছে। শিশু মৃত্যুর এই মিছিল থামাতে সরকারের দ্রুত, দৃশ্যমান ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।  

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close