কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মুরগি পট্টিতে ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই ড্রামের কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, টিনের চালার নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি ড্রেসিং চলছে। এক শ্রমিক ড্রামের কালো-দুর্গন্ধযুক্ত গরম পানিতে লাঠি দিয়ে মুরগি ডুবিয়ে ময়লাযুক্ত মেশিনে ড্রেসিং করছেন। পাশে ঝাড়ু পড়ে আছে, মেঝে কাদা পানিতে একাকার। মেঝেতে বসে মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে, খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে জীবন্ত মুরগি। কর্মচারীরা ড্রামের কালো ময়লাযুক্ত পানিতে মুরগি পরিষ্কার করছেন। পুরো জায়গাটি নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে। এক ড্রামেই ১০০ মুরগি, পানি বদলানোর বালাই নেই।
এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, “ঘন ঘন পানি বদলাইতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও নষ্ট হয়। কাস্টমার দাঁড়াইয়া থাকে। সকালের পানিই সারাদিন চালাই। সবাই তো এমনে করে।”
বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, “চোখের সামনে দেখতেছি কালো পানিতে মুরগি চুবাইতেছে। গন্ধে বমি আসে। বাসায় নিয়া আবার গরম পানি, লবণ, ভিনেগার দিয়া পরিষ্কার করতে হয়। তবুও ভয় লাগে, বাচ্চারা খায়। এভাবেই রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে।”
গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, “বাজারের সব দোকানেই একই অবস্থা। উপায় ই দেইখা কিনতে হয়। প্রশাসন যদি নিয়মিত দেখত, তাহলে এই সাহস পেতো না।”
বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, “একই পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করলে সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও কলেরার জীবাণু সহজেই ছড়ায়। একটা অসুস্থ মুরগির জীবাণু বাকি সব মুরগিতে যায়। এই মাংস খেলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং, এমনকি কিডনি বিকলও হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।”
উপজেলা স্যানিটারী পরিদর্শক বলেন, “এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান চালাব। একই পানি সারাদিন ব্যবহার করলে দোকান সিলগালা ও জরিমানা করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি জোরদার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কেকে/এসএম