মাঠের ধান পেকে গেছে। এর মধ্যে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ, কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। ফলে ধান ঘরে তুলতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
এ কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের লড়িবাগ গ্রামের কৃষক জসিম। বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও কষ্টে ফলানো ফসল ঘরে তোলার আগেই কৃষকের মুখের হাসি ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি। একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ এক মণ ধানের দামেই একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না।
পূর্ণমতি গ্রামের কৃষক জালাল বলেন, ‘ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা ও ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় তারা বিনিয়োগের টাকা তুলতে পারছেন না। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন।
মাঠের কৃষকেরা আরও বলেন, ‘সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হলে এবং বাজারে দাম না বাড়লে তাদের লোকসান পুষিয়ে ওঠা কঠিন হবে।’
তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার ঘোষিত ১,৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম দ্রুত শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।’
কেকে/ এমএস