মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ফের মূলস্ফীতির চাপ
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

দেশে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে পণ্যের দাম বাড়ায় এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘরে উঠে এসেছে। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। অর্থাৎ গত বছরের এপ্রিলে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, চলতি বছরের একই সময়ে তা কিনতে খরচ হয়েছে ১০৯ টাকা ৪ পয়সা।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। তার আগে ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। 

চলতি বছরের এপ্রিলে দেশে সাধারণ (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। এর আগের মাস মার্চে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। তবে গত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি, ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ ছিল।

এপ্রিলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং গত বছরের এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে চলতি বছরের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মার্চে এ হার ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে। এর আগের মাস মার্চে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত বছরের একই মাস এপ্রিলে গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিবিএস তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে গ্রামীণ পর্যায়ে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা বেড়েছে। 

খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৩ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ০২ শতাংশ এবং গত বছরের এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে চলতি বছরের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। মার্চে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং গত বছরের এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

শহরাঞ্চলে সাধারণ (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশে। এর আগের মাস মার্চে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তবে গত বছরের একই মাস এপ্রিলে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলক বেশি, ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

খাদ্য খাতে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং গত বছরের এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশে। মার্চে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং গত বছরের এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বিবিএস তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি হার (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে। এর আগের মাস মার্চ ২০২৬-এ এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। তবে গত বছরের একই মাস এপ্রিলে মজুরি হার ছিল কিছুটা বেশি, ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। 

এপ্রিলে তিনটি বৃহৎ খাত কৃষি, শিল্প ও সেবা সব ক্ষেত্রেই মজুরি হারে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। কৃষি খাতে এপ্রিলে মজুরি হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং গত বছরের এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। 

শিল্পখাতে এপ্রিলে মজুরি হার হয়েছে ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, মার্চে যা ছিল ৮ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছিল ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। 

অন্যদিকে সেবা খাতে এপ্রিলে মজুরি হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে। মার্চে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। মাসিক ভিত্তিতে মজুরি হার কিছুটা বেড়েছে, তবে বার্ষিক তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতে কিছুটা কমলেও শিল্প খাতে তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব বাজারে স্পষ্টভাবে পড়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম অনেক এলাকায় এখনো স্থিতিশীল হয়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই চাপ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ায় সঞ্চয় কমে যাচ্ছে, ফলে ভোক্তা ব্যয়েও পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।

সরকারি পর্যায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তব বাজার পরিস্থিতিতে তার প্রভাব পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সরবরাহ চেইন আরও শক্তিশালী করা এবং নজরদারি বাড়ানো ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

এদিকে আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা আগামী মাসগুলোতে দেশীয় বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলছেন, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেশি বাড়ার কারণ হল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। একইসঙ্গে আমদানিনির্ভর সব পণ্যেরও দাম বাড়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘এটার মধ্যে শুধু জ্বালানি তেল না, অন্যান্য সব আমদানিনির্ভর জিনিসেই তো বেড়েছে। যদিও মূল্যস্ফীতি কমার কোনো লক্ষণ আগেও ছিল না, সংকট তৈরি হওয়ার আগেও ছিল না। কিন্তু এই মার্চ মাসের ভিত্তিটা ‘ডিটেইল’ থেকে যদি দেখেন, এটা সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি।’

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘খাদ্যবহির্ভূতর মধ্যেই তো জ্বালানিটা। যদিও আমাদের বিদ্যুতের দামে কোনো সমন্বয় হয়নি, কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তো পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়। আদতে সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর আগেই, কিন্তু বাজারে জ্বালানির দাম এমনি বেড়ে গেছিল।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  মূলস্ফীতি   চাপ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close