গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা কয়েক মিনিটের ভয়াল ঝড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও ধামলই গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলের মাঠ ও গাছপালা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এ ঝড় আঘাত হানে এসব এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে গ্রামের পর গ্রাম যেন এক যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে রূপ নিয়েছে। কোথাও বসতঘরের টিন উড়ে গেছে, কোথাও বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অনেক স্থানে আহত হয়েছে গবাদিপশুও। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পাকা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, শাকসবজির ক্ষেত মিশে গেছে কাদামাটির সঙ্গে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মিনিটের ঝড় তাদের স্বাভাবিক জীবন তছনছ করে দিয়েছে।
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মণ্ডল বলেন, “হঠাৎ করেই প্রচণ্ড শব্দে ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে। পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক বলেন, “মনে হচ্ছিল পুরো গ্রাম উড়ে যাবে। বড় বড় গাছ উপড়ে গেছে। ধানের ক্ষেত শেষ হয়ে গেছে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কান্না শুরু করে।”
ঝড়ের তাণ্ডবে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও। বহু স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিক পয়েন্টে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। ফলে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
হয়দেবপুর গ্রামের শহিদুল্লাহ খান বলেন, “গ্রামের প্রায় সব জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছে। দ্রুত মেরামত সম্ভব না হলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হবে।”
এ বিষয়ে কাওরাইদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. আনিছুর রহমান বলেন, “ঝড়ে বহু জায়গায় মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। অনেক গাছ লাইনের ওপর পড়ে আছে। সেগুলো সরিয়ে মেরামত করতে সময় লাগবে।”
এদিকে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে কৃষি বিভাগ।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘‘বোরো ধান ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠকর্মীদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।’’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ভূঁইয়া বলেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’’
কেকে/এমএ