কিশোরগঞ্জ কর অফিসে কর্মরত অতিরিক্ত সহকারী কর কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ কর আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। একইসঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে নরসিংদী কর জোনের কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
আইনজীবীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অগ্রিম কর ও বকেয়া করসহ সব ধরনের আয়কর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মো. জাহাঙ্গীর আলম কয়েকজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। সেখানে তিনি কর কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার (মে) কর আইনজীবী সমিতির নেতারা তার কক্ষে গিয়ে ব্যাখ্যা চান। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তিনি কর কমিশনারের অনুমতি নিয়েই চিকিৎসকদের চেম্বারে গিয়েছিলেন।
উপস্থিত আইনজীবীরা তাকে জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনৈতিক এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য শোভন নয়, বিশেষ করে রাতে নারী চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া।
একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির সময় জাহাঙ্গীর আলম উত্তেজিত হয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান এবং টুপি-পাঞ্জাবি খুলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিনের দিকে তেড়ে যান বলে অভিযোগ করেন আইনজীবীরা। পরে উপস্থিত আইনজীবী ও করদাতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হন।
ঘটনার পরপরই কর আইনজীবী সমিতি জরুরি সভায় বসে নরসিংদী কর কমিশনারকে বিষয়টি অবহিত করে। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য কিশোরগঞ্জ কর অফিস বর্জন এবং সব ধরনের কর কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “আগামী রোববার থেকে কিশোরগঞ্জের সব কর অফিস বর্জনের আওতায় থাকবে। কোনো আইনজীবী আয়কর সংক্রান্ত কাজে অংশ নেবেন না। জাহাঙ্গীর আলমকে অন্যত্র সরানো না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘দীর্ঘদিন কর অফিস বর্জন চললে বকেয়া কর আদায়, অগ্রিম কর জমা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এখন গাড়িতে আছি। ফ্রি হয়ে আপনাকে কল দিচ্ছি।’
পরে তিনি কল দেননি।
কেকে/এমএ