সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমির খামার নাইক্ষ্যংছড়িতে
সীমান্ত জনপদ তুমব্রু এখন ‘কুমিরের রাজ্য’
আনোয়ার হোছাইন, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু। একসময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত এই সীমান্ত জনপদ এখন ‘কুমিরের রাজ্য’ পরিচয়ে আলোচনায়। প্রায় ২৫ একর পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা বিশাল এই কুমির প্রজনন কেন্দ্র বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমির খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 

খামারটিতে বর্তমানে আনুমানিক চার হাজার অস্ট্রেলীয় প্রজাতির কুমির রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন শেষে এসব কুমির এখন রপ্তানির উপযোগী হয়ে উঠেছে বলে দাবি খামার কর্তৃপক্ষের। ইতোমধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের আনাগোনাও বেড়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি হতে পারে তুমব্রুর কুমির।

শুক্রবার (৮ মে) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছোট-বড় জলাশয় তৈরি করে সেখানে রাখা হয়েছে কুমিরগুলো। কোথাও পানিতে নিশ্চুপ ভেসে আছে বিশাল আকৃতির কুমির, আবার কোথাও দলবেঁধে রোদ পোহাতে দেখা যায় তাদের। নিরাপত্তার জন্য চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে শক্তিশালী গাইড ওয়াল ও লোহার বেষ্টনী। খামারের ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে টিকিট ব্যবস্থা। প্রতিদিনই স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা এখানে ভিড় করছেন। বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।


খামারের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. আবু তাহের বলেন, ‘প্রতিদিনই স্থানীয় মানুষসহ বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসেন। স্থানীয় দর্শনার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ৫০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতকাল ও সরকারি ছুটির সময় দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।’

তিনি জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মা কুমির ডিম দেওয়ার কারণে টানা প্রায় তিন মাস খামারটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। বাকি ৯ মাস খোলা থাকে।

আবু তাহের বলেন, ‘খামারটি শুরু হওয়ার পর এখনো বিদেশে কুমির রপ্তানি হয়নি। তবে বর্তমানে অনেক কুমিরই বড় হয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা নিয়মিত খামার পরিদর্শনে আসছেন। আশা করছি, খুব দ্রুত রপ্তানি শুরু হবে।’

খামার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে বাণিজ্যিকভাবে এই কুমির প্রজনন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে ৫০টি অস্ট্রেলীয় প্রজাতির কুমির আনা হয়েছিল। প্রতিটি কুমিরের দাম ছিল তিন লাখ টাকারও বেশি। পরবর্তীতে প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কুমিরের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় চার হাজারে পৌঁছেছে।

ঘুমধুম-তুমব্রু কুমির প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. সায়েম রহমান বলেন, ‘এটি মূলত বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। চারপাশে পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিরগুলোকে নিয়মিত মুরগি ও গরুর মাংস খাওয়ানো হয়। সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে খামারের অনেক কুমিরই রপ্তানির উপযোগী হয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা এসে খামার ঘুরে দেখছেন। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই বিদেশে কুমির রপ্তানি করতে পারবো।’

স্থানীয়রা বলছেন, ‘কুমির খামারটি চালু হওয়ার পর সীমান্তবর্তী তুমব্রু এলাকায় পর্যটন সম্ভাবনা বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে।’

খামারটি দেখতে আসা দর্শনার্থী শেহজাদ হোছাইন বলেন, ‘তুমব্রুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। পাহাড়ঘেরা পরিবেশে এত বড় কুমির খামার দেখতে আলাদা রোমাঞ্চ লাগে। মাঝে মধ্যেই এখানে ঘুরতে আসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খামারটি শুধু বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, এটি এখন বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছে।’

স্থানীয়দের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে তুমব্রুর এই কুমির খামার দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি হতে পারে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম বড় পর্যটন আকর্ষণ।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সীমান্ত জনপদ তুমব্রু   কুমিরের রাজ্য   দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমির খামার   নাইক্ষ্যংছড়ি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close