মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
এক অনন্ত নির্ভরতার নাম ‘মা’
মো. মীমরাজ হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

আজ (১০ মে) মে মাসের দ্বিতীয় রোববার, বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। তবে সন্তানের কাছে মায়ের জন্য ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনে আটকে থাকে না। প্রতিটি দিনের শুরু আর শেষজুড়ে জড়িয়ে থাকেন মা।

ছোটবেলায় হয়তো বুঝিনি, মা আসলে কত বড় এক শক্তির নাম। এখন জীবন যত এগোচ্ছে, ততই বুঝতে পারছি—একজন মা নীরবে কত ত্যাগ করেন সন্তানের জন্য।

আমরা ছিলাম ছয় ভাইবোন। ভাইবোনদের মধ্যে আমি ছিলাম পঞ্চম। বড় সংসার, সীমিত সামর্থ্য—তবু মা কখনো আমাদের বুঝতে দেননি সংসারের কষ্ট। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্না করতেন। সকালে খাবার খাইয়ে আমাদের স্কুলে পাঠাতেন। তখন বাবা চাকরি করতেন আদমজী জুট মিলে। বাবা কাজে চলে যাওয়ার পর পুরো সংসারের দায়িত্ব যেন একাই কাঁধে তুলে নিতেন মা।

সেই সময়গুলো এখন মনে হলে অবাক লাগে। ছয় সন্তানকে সামলানো, পড়াশোনা দেখা, রান্নাবান্না, সংসারের সব কাজ—সবকিছুই তিনি করতেন নিঃশব্দে। নিজের ক্লান্তির কথা কখনো বলতেন না।

ছোটবেলার একটি ঘটনা আজও খুব মনে পড়ে। তখন আমার বয়স প্রায় পাঁচ বছর। হঠাৎ করেই আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। প্রায় দেড় মাস আমাকে নিয়ে মা হাসপাতাল, ডাক্তার, কবিরাজ—বিভিন্ন জায়গায় ছুটেছেন। সেই সময় মায়ের চোখে ঘুম ছিল না বললেই চলে। দিন-রাত শুধু আমার পাশে বসে থাকতেন। সন্তানের কষ্ট একজন মাকে কতটা ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়, সেটা তখন বুঝিনি। এখন বুঝি।

পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে মা শাসন করতেন। তখন রাগ হতো, অভিমান হতো। কিন্তু এখন মনে হয়, সেই শাসনের মধ্যেই ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে এক মায়ের স্বপ্ন। মা চাইতেন আমরা মানুষ হই, নিজের পায়ে দাঁড়াই।

সময় বদলেছে। ছোট্ট সেই ছেলেটি আজ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। দেশের অন্যতম অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা পোস্ট’ ও জাতীয় দৈনিক ‘খোলা কাগজ’-এ কাজ করছি। এই পথচলায় অনেক সংগ্রাম ছিল, এখনো আছে। তবে প্রতিটি কঠিন সময়ে মায়ের কথাগুলো সাহস জুগিয়েছে।

এখনো রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হলে মা ফোন করেন। জানতে চান খেয়েছি কি না। বয়স বাড়লেও মায়ের কাছে সন্তান কখনো বড় হয় না।

মা দিবসে মনে হয়, মায়ের জন্য আলাদা করে কিছুই করা হয় না। অথচ একজন মা পুরো জীবনটাই দিয়ে দেন সন্তানের জন্য। বিনিময়ে খুব বেশি কিছু চান না, শুধু সন্তানের ভালো থাকা চান।

পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। কারণ মা মানে শুধু একটি সম্পর্ক নয়, মা মানে জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close