সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
হামে থামছে না মৃত্যুর মিছিল, সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম আপডেট: ১২.০৫.২০২৬ ১২:৩৫ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে এক চরম সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রকোপ এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে ৪০৯-এ পৌঁছেছে, আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ৫০ হাজারের ঘর। 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মৃতদের অধিকাংশই শিশু। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত বিপুলসংখ্যক শিশুর প্রাণহানি আমাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি এবং জনসচেতনতার সীমাবদ্ধতাকেই নগ্নভাবে প্রকাশ করে।

পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৮ এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের। বিপরীতে রংপুরে আক্রান্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে কম হলেও স্থানীয় তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের গরমিল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সরকারি তালিকার বাইরেও অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও উসকে দেয়। তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি। 

হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে টিকাদানে ঘাটতি। ইউনিসেফের দ্রুত যাচাই পদ্ধতি (আরসিএম) অনুযায়ী, শহর এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু এখনো টিকার বাইরে রয়ে গেছে। 

বিশেষ করে পথশিশু, ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুদের মধ্যে টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। অনেক কেয়ারগিভার বিশেষ করে প্রান্তিক ও ভাসমান জনগোষ্ঠির অনেকই জানেন না যে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে বা কোথায় গেলে এ সেবা পাওয়া যাবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে টিকার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করায় মায়েদের মনে যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো ছিল না।

সরকার ইতোমধ্যে দেশজুড়ে টিকার ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এবং ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবি করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অনেক পরিবারে এখনো গুজব, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় কিংবা স্রেফ তথ্যের অভাবে শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একটি শিশুও যদি টিকার বাইরে থাকে, তবে তা পুরো এলাকার শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল ক্যাম্পেইন চালানোই যথেষ্ট নয়, বরং বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘ডোর-টু-ডোর’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং নাগরিক সমাজকে এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে বস্তি এলাকা, দুর্গম অঞ্চল এবং ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

একইসঙ্গে টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। গণমাধ্যম, মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মায়েদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, ৬ মাস বয়সে টিকা দেওয়াও শিশুর জন্য নিরাপদ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত হবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া, যাতে কোনো অবহেলার কারণে একটি শিশুও টিকার আওতার বাইরে না থাকে। 

হামে একটি শিশুর মৃত্যু মানে একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ এবং রাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যর্থতা। এ মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে আমাদের সম্মিলিত ও কার্যকর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুততার সঙ্গে টিকাদানের এই ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ পূরণ করবে এবং সঠিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনস্থাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কোনো শিশুই যেন আর টিকার অভাবে অকালে ঝরে না পড়ে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close