মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার বাতিঘর
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১:৩৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ঘেরা দোছড়ি ইউনিয়নের তুলাতলী। যোগাযোগ, অবকাঠামো ও শিক্ষার দিক থেকে বছরের পর বছর অবহেলিত এই প্রত্যন্ত জনপদে বহু কষ্টে জ্বলে উঠেছিল শিক্ষার একটি প্রদীপ। কিন্তু হঠাৎ আসা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সেই আলো এখন নিভে যাওয়ার উপক্রম।

পাহাড়ি জনপদের পিছিয়ে পড়া শিশু-কিশোরদের দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ করে দিতে স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দারুন নাজাত মডেল দাখিল মাদরাসা’। অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এলাকার মানুষের আশা-ভরসার কেন্দ্র। বর্তমানে মাদরাসাটিতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৯০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পাঠদান করছেন আটজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের মাসিক ফি, স্থানীয়দের ক্ষুদ্র অনুদান ও স্বেচ্ছাশ্রমে চরম অভাবের মধ্যেও দুই বছর ধরে কোনো রকমে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ভয়াবহ কালবৈশাখীর ঝড়ে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো মাদরাসা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চাল উড়ে গেছে অনেক দূরে। বাঁশ, কাঠ ও টিনের তৈরি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভেঙে পড়েছে খুঁটি ও বেড়া। কোথাও ছিন্নভিন্ন টিন, কোথাও কাদার মধ্যে পড়ে আছে বই-খাতা ও বেঞ্চ। কয়েকটি কক্ষ আংশিক টিকে থাকলেও সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানেও পানি ঢুকে পড়ছে। ফলে বর্তমানে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

মাদরাসা সূত্র জানায়, দুর্যোগের পর স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সামাজিক সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা মেলেনি। দ্রুত সহায়তা না এলে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা বলছেন, দুর্গম এ পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুবই কম। বিশেষ করে দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ ছিল না বললেই চলে। এমন বাস্তবতায় দারুন নাজাত মডেল দাখিল মাদরাসাটি এলাকাবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছিল। কিন্তু ঝড় সেই স্বপ্নকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

এদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে ঝুঁকি নিয়েও ভাঙা কক্ষে বসে পড়াশোনা করার চেষ্টা করছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ অবহেলিত পাহাড়ি গ্রামের একমাত্র নবপ্রতিষ্ঠিত দাখিল মাদরাসাটির অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

মাদরাসার শিক্ষার্থী মো. শেফায়েত হোসাইন সাফওয়ান, ফাতেমা বেগম, নুরুল ইসলাম শুয়াইব, মো. ইসমাইল, আবু বক্কর, জান্নাতুল বকেয়া, মুসলিমা আক্তার, নুসরাত জাহান, সামিহা সুলতানা ও রিনা আক্তার বলেন, “ঝড়ে আমাদের ক্লাসরুম ভেঙে গেছে। বই-খাতা নষ্ট হয়েছে। এখন ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছি না। বৃষ্টি হলেই পুরো মাদরাসায় পানি ঢুকে যায়। আমরা আবার আগের মতো সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই।”

অভিভাবক মো. হোছাইন লালু, মো. জুহার, নুরুল আমিন, জাকের হোসেন, রশিদ আহমদ, মো. ইয়াকুব, মো. জকির ও মো. শুক্কুর বলেন, “আমাদের এই পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুবই কম। সন্তানদের মানুষ করতে কষ্ট করে এই মাদরাসা গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু এক ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”

মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাস্টার নুরুল আমিন, মাস্টার মো. রাশেদুল ইসলাম ও মাওলানা আনচার উল্লাহ বলেন,
“চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পুরো অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এখন শিক্ষার্থীদের বসানোর মতো নিরাপদ কক্ষও নেই। দ্রুত সহায়তা না পেলে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই মাদরাসাটি ছিল দুর্গম তুলাতলী এলাকার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন। এলাকার শিক্ষিত তরুণ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় আমরা প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করিয়েছি। কিন্তু ভয়াবহ ঝড়ে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে সহযোগিতার আবেদন করেছি। সরকারের জরুরি সহায়তা না পেলে এতগুলো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পড়ে যাবে।”

কালবৈশাখীর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close