মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
দেশজুড়ে
বাঘায় আবারও পেঁয়াজের দরপতন, লোকসানের শঙ্কায় কৃষক
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা এলাকায় আবারও পেঁয়াজের দরপতনে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন বেড়েছে, আবাদও হয়েছে বেশি জমিতে। তবে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন অধিকাংশ চাষি। গত বছর পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন বাঘার কৃষক রুহুল আমিন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কৃষকের অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ১০০ টাকায় ছয় থেকে সাত কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় হাটগুলোতে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের তুলনায় এ দাম অনেক কম। ফলে ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

মঙ্গলবার কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর অতিরিক্ত আবাদ নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকদের ক্ষতি কমাতে ক্রপ জোনিং বা চাহিদাভিত্তিক আবাদ নিয়ে আলোচনা হলেও এবার তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, মৌসুমের শুরুতে সাধারণত সব ফসলের দাম কিছুটা কম থাকে। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আরও এক মাস পর পেঁয়াজের দাম প্রতি মণ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাঘা উপজেলায় এক হাজার ৯২৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল এক হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে। এবার উৎপাদন হয়েছে ৩৮ হাজার ৯৬৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, যা গত বছরের প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টনের চেয়ে বেশি। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এ উৎপাদন উদ্বৃত্ত বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বাঘার পেঁয়াজ চাষি শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ২৬ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। বর্তমান বাজারদরে তার প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এখন যে দাম, তাতে খরচই উঠবে না। লাভের মুখ দেখতে হলে কয়েক মাস পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।

এদিকে গত বছর আত্মহত্যা করা কৃষক রুহুল আমিনের পরিবারে এখনও দুর্দশা কাটেনি। তার স্ত্রী মরিয়ম সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। দেড় মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। দুর্ঘটনায় তার দুই পা ভেঙে গেছে।

রুহুল আমিনের ছেলে মীর মশিউর রহমান রনি বর্তমানে সাভার এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারে একের পর এক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এখন আর কেউ গ্রামে থাকে না। মাঠে চাষাবাদও বন্ধ হয়ে গেছে।

ঋণের চাপে জর্জরিত হয়ে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাঘার আড়ানি রেলস্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন কৃষক রুহুল আমিন। সে সময় তিনি এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। কৃষকদের আশঙ্কা, বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারও অনেক চাষি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close