সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      
দেশজুড়ে
শোলাকিয়া ঈদগাহের গেট উদ্বোধন
‘প্রটোকল লঙ্ঘনে’ দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে ভিপি সোহেল
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৫:৫৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের প্রবেশদ্বার নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নামফলকে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুসরণ করা হয়নি অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা মুখে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল)। 

বুধবার (১৩ মে) দুপুর থেকে নামফলকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। 

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশদ্বার নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। 

অভিযোগ ওঠে, ফলকে একজন সংসদ সদস্যের নামের উপরে জেলা পরিষদ প্রশাসকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দিয়ে সমালোচনা করেন। অনেকেই বিষয়টিকে ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল) সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাকে ১৫ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দেয় বিএনপি সরকার।

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ তার ফেসবুক আইডিতে পোস্টে লেখেন, “সিনিয়র লিডারদের কাছে কিশোরগঞ্জবাসী সস্তা রাজনীতি প্রত্যাশা করে না। এই নাম ফলকটিতে ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্সি, ১৯৮৬ অনুসরণ করা হয়নি। নাম ফলকটিতে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমি মনে করি এটি অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। তাই এটি সংশোধন করে নতুন নাম ফলক লাগানো হোক।”

একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান জেলা সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজীব।

এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন লিখেন, ‘সিনিয়র লিডারদের কাছে কিশোরগঞ্জবাসী সস্তা রাজনীতি প্রত্যাশা করে না। এই নাম ফলকটিতে ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্সি, ১৯৮৬ অনুসরণ করা হয়নি। নাম ফলকটিতে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমি মনে করি এটি অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। তাই এটি সংশোধন করে নতুন নাম ফলক লাগানো হোক।’

স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, পুরো দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। তাই এ ধরনের স্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল, রাজনৈতিক সৌজন্য ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিত ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার কারণে বিষয়টি এখন কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিতর্কিত বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কাজে যিনি উদ্বোধক থাকেন, নিয়মানুযায়ী তার নাম প্রথমে থাকে এবং এরপর প্রধান অতিথির নাম আসে। অতীতেও এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ফলক এবং রাজনৈতিক সম্মেলনের প্রটোকলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সমালোচকদের ২০০০ সালের (সংশোধিত ২০শে) ‘রুলস অব প্রসিডিংস’ পড়ার অনুরোধ জানান।

প্রশাসক বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আমাদের অত্যন্ত সিনিয়র নেতা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তার সম্মান রক্ষা করে চলা আমাদের দায়িত্ব। উদ্বোধকের নাম আগে থাকার মানে এই নয় যে তাকে অসম্মান করা হয়েছে। যারা এই বিষয়টিকে অসম্মান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন, তারা মূলত দলকে ছোট করছেন।’

তিনি জানান, সংসদ সদস্য অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ এবং নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল পর্যায়ে সময় দেন। এর আগের একটি অনুষ্ঠানেও তিনি সময় দিতে পারেননি এবং এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি। ‘এমপি সাহেব আগের দিন আসার কথা বলেছিলেন বলেই তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। তিনি না আসায় আমি একাই উদ্বোধন করেছি।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে তিনি সতর্ক থাকবেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, ‘যদি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট আইন থাকে যেখানে প্রধান অতিথির নামই সর্বাগ্রে রাখার বিধান আছে, তবে তা আমাকে জানালে ভবিষ্যতে অবশ্যই তা সংশোধন করে নেওয়া হবে। উনাকে সম্মান দিলে আমাদের কোনো লস নেই।’ 

প্রশাসক দাবি করেছেন যে তিনি নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন, তবে কারো কাছে ভিন্ন কোনো আইনি প্রমাণ থাকলে তিনি তা গ্রহণ করতে এবং ভবিষ্যতে সংশোধন করতে রাজী আছেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামের ফোনে একাধিকবার ফোন করে হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close