চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দুর্ঘটনা কমাতে প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও যাত্রীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের এই অংশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক প্রশস্ত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চুনতি এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। এরপর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জোরালো হয়।
সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে তিনটি প্যাকেজে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলছে।
প্রথম প্যাকেজে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।
দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়কে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন।
তৃতীয় প্যাকেজে চুনতি মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ জানান, বর্তমানে মহাসড়কের প্রস্থ ২১ ফুট। এটি বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হচ্ছে। সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত উভয় পাশে কোথাও ছয় ফুট, কোথাও সাত ফুট করে সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আরও ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে মাঝখানে ডিভাইডার রেখে চার লেন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ফেজ-১) আওতায় প্রায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের শিক্ষার্থীরা।
কেকে/ এমএস