সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      
দেশজুড়ে
স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর নদীতে ঝাঁপ দেন ফোরকান
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম আপডেট: ১৪.০৫.২০২৬ ৫:১০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। 

গাজীপুর জেলা পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন পরিবারের কর্তা মো. ফোরকান মোল্লা (৪০)।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় গাজীপুর থেকে পাঠানো প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে গোপালগঞ্জের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদৎ মোল্লার মেয়ে শারমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান— মীম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) জন্মগ্রহণ করে। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল।

প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া গ্রামের মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গেল ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক রসূল মোল্লাকে (২২) গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ার বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ৮ মে রাত ৮টা থেকে ৯ মে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো একসময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করেন। পরে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে সঙ্গে নিয়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাদের।

এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা শাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. যোবায়ের।

ঘটনার পর কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার (১১ মে) আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন মেহেরপুর সদর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, এক ট্রাকের হেলপার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে নিজের কাছে রাখেন।

পরে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই দিন সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এরপর তিনি পদ্মা সেতুর রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা। 

হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় পদ্মা সেতু সংলগ্ন বিভিন্ন থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। 

মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কেকে/এমএ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  স্ত্রী   সন্তান   শ্যালককে হত্যা   নদীতে ঝাঁপ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close