কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো অপরিপক্ক লিচু ও আম। মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে এসব ফল ওঠায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এসব অপরিপক্ক ও কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল খেলে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোববার (১৭ মে) উপজেলায় বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে দোকান, রাস্তার পাশ, বাজার ও ভ্যানগাড়িতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অপরিপক্ক লিচু ও আম। শিশুদের আবদারের কারণে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে এসব ফল কিনছেন। ৫০ পিস আটি বাঁধা লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর বিভিন্ন আকর্ষণীয় নাম ব্যবহার করে অপরিপক্ক আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১৫০ টাকায়।
উপজেলার একাধিক ক্রেতা জানান, ‘দেখতে সুন্দর মনে হওয়ায় কিনেছিলাম। কিন্তু খাওয়ার পর বুঝেছি এগুলো একেবারেই স্বাদহীন। পাতলা বাকল, বড় বিচি ও টক স্বাদের কারণে মুখে দিয়ে ফেলে দিতে হয়েছে।’
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বোম্বাই ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর মৌসুম শুরু হবে মে মাসের শেষ দিকে। আর বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচু পাওয়া যাবে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এর আগে বাজারে আসা অধিকাংশ লিচুই কৃত্রিমভাবে পাকানো অপরিপক্ক লিচু বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেমিক্যাল ব্যবহার করে অপরিপক্ক ফল বাজারজাত করছে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
ক্রেতা নাজমুল বলেন, ‘বাচ্চারা দেখে লিচু খেতে চায়। তাই কিনতে হয়। কিন্তু খাওয়ার পর বুঝি এগুলো আসল পাকা ফল না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মালেকুল আফতাব ভূইয়া বলেন, ‘কেমিক্যাল মেশানো অপরিপক্ক লিচু ও আম খেলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া পেটের পীড়া, বমি, ডায়রিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী এসব রাসায়নিক ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।’
কেকে/ এমএস