নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে আগাছানাশক (ঘাস মারা বিষ) ছিটিয়ে সোয়া বিঘা জমির ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে পত্নীতলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ননী গোপাল মহন্ত (৬৬যেলা
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, জমিতে রোপণ করা ধানের গাছগুলো মরে গেছে।
গত ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর পাটিচড়া ইউনিয়নের কাশিপুর মণ্ডপপাড়া এলাকার মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে মোছা. আয়েশা বেগমের ছেলে ইয়াকুব ও এনামুলের কাছ থেকে সোয়া বিঘা জমি কিনে নেন ননী গোপাল মহন্ত। এরপর থেকে তিনি ওই জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে ভোগদখল করে আসছেন। এখন এসে অভিযুক্তরা জমিটি মৌখিকভাবে নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা করে আসছেন। তবে তারা কোনো দলিল বা কাগজ দেখাতে পারেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ননী গোপাল মহন্তের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে ওই জমিতে ধান রোপণ করে পরিচর্যা করছিলেন তিনি। গত ৭ আগস্ট সকালে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র, হাসুয়া, বটি, আগাছানাশক ও স্প্রে মেশিন নিয়ে তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ধানে আগাছানাশক ছিটাতে থাকেন। বিষয়টি অন্য কৃষকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে জানতে পারেন তিনি।
এ সময় অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করেন এবং জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। একপর্যায়ে ধারালো হাসুয়া দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আগাছানাশক ছিটানোর কারণে জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষক ননী গোপাল মহন্ত।
তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তদের হুমকির কারণে বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কৃষক ননী গোপাল মহন্ত।’
এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/এলএ