মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিএনপির দুর্দিনের নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল ত্যাগী কর্মী সামছু মিয়াকে (৫৮) আর্থিক সহায়তা করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তাজ উদ্দিন তাজু।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে উপজেলার ৬ নম্বর আশিদ্রোন ইউনিয়নের মোহাজিরাবাদে সামছু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার শারীরিক ও পারিবারিক খোঁজখবর নেন এবং নগদ অর্থ তুলে দেন তাজ উদ্দিন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. সামছু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সামছু মিয়া বিএনপির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত অনুমোদিত কমিটির সদস্য (৮১ নম্বর) ছিলেন। বিএনপি রাজনীতি করার কারণে আওয়ামী লীগ আমলে মিথ্যা ও গায়েবী হয়রানিমূলক মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি। এরপরও তিনি দল ছাড়েননি। ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।
বিগত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও জেল-জুলুমে সর্বস্ব হারানো এ কর্মী প্রায় চার বছর ধরে ব্রেনস্ট্রোক করে নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে অসুস্থ হয়ে উন্নত চিকিৎসা ও অর্থের অভাবে পরিবার নিয়ে চরম দুঃখকষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি।
সামছু মিয়া বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এখন পর্যন্ত সরকার এবং দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের কারণে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
তাজ উদ্দিন তাজু বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে যারা বিএনপির জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সামছু মিয়া। তিনি দলের দুঃসময়ে আমাদের দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তার দুঃখ-কষ্টের খবর শুনে আমি আমার পক্ষ থেকে নগদ অর্থ দিয়েছি। তার মতো নিবেদিতপ্রাণকর্মীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের দলের নেতাকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এঅনুরোধ- তিনি যেনো তাকে সহযোগিতা করেন।’
সামছু মিয়ার প্রতিবেশী ও দলের সহযোদ্ধা ইউনুছ খান বলেন, ‘সামছুর মতো ত্যাগী বিএনপি কর্মী এখন ভালো নেই। জেলা-উপজেলা শীর্ষ নেতারাও দুর্দিনের নেতাকর্মীদের আগের মতো আর খোঁজ নেন না।’
সামছু মিয়া বলেন, ‘আমি তাজ উদ্দিন তাজু ভাই, বর্তমান এমপি মুজিব ভাইসহ দলের অনেক নেতাকর্মীর সাথে একাধিক মিথ্যা ও হয়রানি মামলায় কয়েকবার জেল খেটেছি। বর্তমানে গায়েবী মামলা থেকে স্থায়ী খালাস পেলেও আর্থিক সংকট, মামলা-হামলার দীর্ঘ ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি।’
কেঁদে কেঁদে তিনি আরও বললেন, ‘দুইটি বোমা বিস্ফোরণ মামলায় কয়েকবার কারাবরণ করেছেন। দলের জন্য অনেক টাকা-পয়সা ও সময় দিয়েছি। দলকে ভালোবাসে দুর্দিনেও দল ছাড়িনি। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। তবে দলের দুর্দিনে যারা আমার সাথে ছিলেন একমাত্র তাজু ভাই ছাড়া কেউই আমার খোঁজখবর নেয়নি, সহযোগিতা করেনি।’
সামছু মিয়া আরও বলেন, ‘আমার রাজনীতির জীবন শুরু হয়েছে বিএনপির মাধ্যমে। এখনো এই দলেই আছি। বিএনপি তেই থাকবো। কিন্তু আজ জীবনের শেষ সময়ে উপনিত। গত চার বছর ধরে স্ট্রোক করে ঘরবন্দি। হাঁটাচলা করতে পারি না। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে, সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন পূর্বে দলের দুয়েকজন আমার বাড়িতে এসে দেখা করে আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আর কেউ দেখতোও আসলো না। সহযোগিতা তো দূরের কথা। এখন দলের সুদিন। কিন্তু আমার মতো অসহায় কর্মীর খোঁজ নেওয়া ও সহযোগিতা করার মতো নেতাকর্মীর অভাব। আমি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’
কেকে/এমএ