নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া-নয়ানপুর সড়কে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জানা গেছে, ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খিলপাড়া বাজারে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন এ পথে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ পথচারী চলাচল করেন। এছাড়া কয়েকশ সিএনজি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। বাজারের মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাক ও পিকআপও এই ব্রিজ ব্যবহার করত।
খিলপাড়া-নয়ানপুর সড়কের খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি ব্রিজের পশ্চিম পাশে ৫০০ ফুট এবং পূর্ব পাশে আরও ৫০০ ফুট সড়ক পাকাকরণের জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে জনতা ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ব্রিজটির প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে ফাইলিং কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল হেমারের সংকট থাকায় বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে ফেলার পর দক্ষিণ পাশে জনসাধারণের চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী, পথচারী ও হালকা যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সেই সড়ক ব্যবহার করছে।
বাজার বণিক সমিতি সভাপতি মাওলানা কেফায়েত বলেন, “ট্রাক এবং পিকআপ এ সড়ক দিয়ে চলতে পারে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে অনেক দূর ঘুরে ট্রাক এবং পিকআপে করে মালামাল আনতে হয়। এতে করে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে ব্যবসায়ীরাও অধিক মূল্যে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।”
একই মতামত জানালেন বাজারের ব্যবসায়ী নুর নবী, মনির হোসেন, সানা উল্লাহ, কামাল হোসেন স্বপন, নূর আলম বিপ্লব প্রমুখ।
ঠিকাদার মাসুদ রানা জানান, ব্রিজের ফাইলিং কাজ করার জন্য ডিজেল হেমারের বাজারের প্রচন্ড সংকট রয়েছে। এতে করে তারা ডিজেল হেমারের জন্য কাজ করতে পারছেন না। তারা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম বলেন, “ফাইলিং করতে ডিজেল হেমার ব্যবহার করলে সুন্দরভাবে কাজ করা যায়, কাজের মান ভালো হয়। তাছাড়া ড্রপ হেমার ব্যবহার করলে ফাইলিং ভেঙ্গে যাওয়াসহ দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। এ ব্রিজে ডিজেল হেমার ব্যবহার করা হবে। ডিজেল হেমারের সংকট থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে।”
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহিনুর আলম বলেন, “নয়নপুর থেকে ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের পাকা করণের কাজ শেষ। ব্রিজের কাজ বন্ধ থাকায় ব্রিজ থেকে খিলপাড়া বাজার পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। যেভাবে হোক ডিজেল হেমার সংগ্রহ করে ঈদের ১০ থেকে ১৫ দিন পর এর কাজ শুরু হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, সড়কটি চলাচলের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ। এর নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
কেকে/এজে