পটুয়াখালীর দশমিনায় হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ, বাজার, দোকানসহ বিলীন হওয়ার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ভাঙন হাজিরহাট জামে মসজিদের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙনে মসজিদটি নদীরগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে স্থানীদের মধ্যে। এতে এলাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন চললেও সম্প্রতি এর তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নতুন কোনো এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও ছোট ছোট স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। এখন মসজিদসহ আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগসহ কয়েকজন বলেন, এই মসজিদ আমাদের আবেগ, ইতিহাস আর বিশ্বাসের জায়গা। ছোটবেলা থেকে এখানে নামাজ পড়ছি। এখন চোখের সামনে নদী এগিয়ে আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মসজিদ রক্ষা করা সম্ভব হবে না। নদী ভাঙনে আমরা খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। প্রতিদিন আতঙ্কে থাকতে হয়। এখন মসজিদও হুমকিতে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীতে হারিয়ে যাবে।
এলাকাবাসীর দাবি, হাজিরহাট, কেদীরহাট, বাশবাড়িয়া ও গোলখালী, কাটাখালী, আউলিয়াপুর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, জিও ব্যাগ ফেলা এবং নদী শাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় তেঁতুলিয়ার ভয়াল ভাঙনে পুরো জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘হাজিরহাট জামে মসজিদ ভাঙ্গনের জিও ব্যাক ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে, ভাঙ্গন বন্ধ না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
নদী ভাঙন বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (বাপাউবো) মো. রাকিব খোলা কাগজকে বলেন, ‘দশমিনা হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদী ভাঙনে রোধে আমাদের কাজ শুরু করেছি জরুরী ভিত্তিতে ৬০ লাখ টাকা ব্যায়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে।’
কেকে/ এমএস