মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
নতুন বেতন স্কেল
বাস্তবায়নের রূপরেখা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভারসাম্য জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত বেতন স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা চাকরিজীবীদের জন্য উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটির এই সিদ্ধান্ত বড় স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এজন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার পরিকল্পনা সরকারের আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ। তবে কমিশনের সুপারিশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে বার্ষিক অতিরিক্ত ১,০৬,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানের ১,৩১,০০০ কোটি টাকার বেতন বিলের সঙ্গে যুক্ত হবে। নতুন সরকার এক বছরের বড় ধাক্কা এড়াতে বুদ্ধিমানের মতো একবারে সব না করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রথম বছরেই এর খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের আর্থিক পরিস্থিতি কিন্তু মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। রাজস্ব আদায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে, যা এশিয়ায় অন্যতম সর্বনিম্ন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বারবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, করের আওতা বাড়ানো, কর ছাড় কমানো, অর্থনীতির বড় অংশকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং কর অনুপালন বৃদ্ধির মতো দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাঠামোগত সংস্কারগুলো এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এই চাপ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য দেশের আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে এবং আর্থিক সক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করেছে। এই দ্বিমুখী চাপ— দুর্বল রাজস্ব আদায় এবং উচ্চ জ্বালানি খরচ— এমন কিছু কারণ ছিল, যার জন্য চলতি অর্থবছরে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত করা হয়েছিল। সেই অন্তর্নিহিত দুর্বলতাগুলো কিন্তু এখনও রয়ে গেছে।

বেতন কাঠামোতে এত বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া অনিবার্যভাবেই মূলধনী ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে; অথচ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অবকাঠামো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকারী বিনিয়োগের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ, যা এমনিতেই দীর্ঘস্থায়ী কম খরচ এবং বিলম্বের কারণে বাধাগ্রস্ত, তা এখন এই চলতি ব্যয়ের সঙ্গে আরও তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রতি সরকারের প্রবণতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রেও নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কারণ বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীরা আশা করে যে দেশ নির্ভরযোগ্য কর সংস্কার, ভর্তুকি হ্রাস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি দক্ষতা প্রদর্শন করবে।

এই আসন্ন বেতন সংশোধনের মাধ্যমে কারা উপকৃত হচ্ছে, তা অনুধাবন করাও জরুরি। এর সুবিধাভোগীরা কিন্তু দেশের সবচেয়ে দরিদ্র নাগরিক নন, বরং মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি, যাদের অর্থনৈতিক অবস্থান জনসংখ্যার অন্যান্য অংশের চেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল। পোশাক শ্রমিক, দিনমজুর এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র চাষিদের এই সমন্বয়ের ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক চাপের পরোক্ষ মূল্য চুকাতে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে গেজেট প্রকাশে আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেরি হলেও বকেয়াসহ ১ জুলাই থেকেই সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে। তবে মনে রাখতে হবে, জনগণের করের টাকায় এই বিশাল ব্যয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার গতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্তটি বিচক্ষণ, কিন্তু যা এখনও অনুপস্থিত— অন্তত জনসমক্ষে— তা হলো রাজস্ব সংস্কারের জন্য একটি সমমানের নির্ভরযোগ্য ও পর্যায়ক্রমিক কৌশল। সেটি ছাড়া, এই নতুন বেতন স্কেল বাংলাদেশের এমনিতেই ভঙ্গুর আর্থিক সক্ষমতার জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। সেই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে কতটুকু খেসারত দিতে হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

কেকে/এলএ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close