মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান : সংগ্রাম, সাহস ও বাংলাদেশ নির্মাণ
মোহাম্মদ শাহজাহান (সম্রাট)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:৪৯ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কিছু মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির জীবনাবসান নয়, বরং তা একটি জাতির ভাগ্যরেখা পরিবর্তনের মোড় এবং জাতীয় গতিপথের আকস্মিক পরিবর্তনের নাম। বাংলার মজলুম জনগণের মহানায়ক, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরির অন্যতম কারিগর, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণ তেমনই এক ঘটনা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসকে একটি সামরিক বিদ্রোহ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব হিসেবে পাঠ করলে ভুল হবে; এটি ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ, ভূরাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর এক গভীর আঘাত। আজও আমরা সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শক্তির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, গবেষণা এবং রাজনৈতিক আলোচনা করে যাচ্ছি, কিন্তু একটি উপসংহারে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কেন আধিপত্যবাদী শক্তির জন্য তাকে সরিয়ে দেওয়া জরুরি ছিল?

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ কী হারিয়েছে? এ দুটি প্রশ্নের জবাব খোঁজা অপরিহার্য হলেও শহীদ জিয়ার মৃত্যুর ঘটনার আরও অনেক মাত্রা রয়েছে। কারণ, তিনি বিগত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে অন্যতম সফল সমরবিদ এবং রাজনৈতিক নেতা, যিনি একটি দেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং সেই দেশের সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করতে একটি রাজনৈতিক মতবাদ দিয়েছেন। প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মাথায় নিয়ে শহীদ জিয়াকে শুধু একজন সামরিক নেতা বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করার চেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন পর্বের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্র ধরে এগোতে হয়, যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তাকে নতুন ভাষা দিয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী অস্থিতিশীল বাংলাদেশে যখন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা তীব্র হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ জনতা ও বিপ্লবী সেনাবাহিনীর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ফসল হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। গবেষকরা মনে করেন, ১৯৭২-৭৫ সালে আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনব্যবস্থা, রক্ষীবাহিনীর জুলুম, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার উপক্রম সংকটকে ঘনীভূত করে। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসীন করে।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং তাদের প্রশাসনিক অদক্ষতার ফলস্বরূপ হওয়া দুর্ভিক্ষ, চরম মাত্রার দুর্নীতির কারণে বিদেশি সাহায্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়েই এ বাস্তবতা বদলে দেন। তিনি দেশজ কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, মিঠা পানি ধরে রাখার জন্য দেশব্যাপী খাল খনন—যা তাকে জনতার একদম কাছে নিয়ে যায়—গ্রামে গ্রামে উন্নয়ন কমিটি গঠন, বেসরকারি খাতকে জীবন্ত করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করে অর্থনীতিকে আমূল পরিবর্তন করেন।

বাংলাদেশের শ্রমশক্তিকে উন্নত করে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করেন জিয়াউর রহমান, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম ভিত্তি। তার উন্নয়নচিন্তার ফল—খাল খনন, গ্রাম সরকার, স্বনির্ভর বাংলাদেশ—এখনো প্রাসঙ্গিক ও অনুকরণীয়।

জিয়াউর রহমান তার মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে রূপান্তর করেন। তিনি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-তে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করেন এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেন। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্ব, চীন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি জিয়াউর রহমানকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন মাত্রা পায়।

জিয়াউর রহমানের উত্থান যেমন চমকপ্রদ, তেমনি তার রাজনৈতিক যাত্রা ছিল বহুমাত্রিক ও সংঘাতপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রকে স্থিতিশীল করতে গিয়ে তাকে একাধিক সামরিক বিদ্রোহ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিভক্তি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং তার শাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র—সবকিছু মিলিয়ে জিয়াউর রহমানের সরকার পরিচালনা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও জটিল।

১৯৮১ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে তার দলীয় সফর ছিল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যখন দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছিল। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছিল এবং জিয়াউর রহমান নিজেকে কেবল সামরিক শাসক নয়, একজন গণভিত্তিসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ অবস্থায় তার হত্যাকাণ্ড সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ৩০ মে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের সরকারি বিবরণে বলা হয়, সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা বিদ্রোহ করে তাকে হত্যা করে। পরে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি প্রশ্ন; বরং শুরু হয় অসংখ্য রহস্য ও বিতর্ক। প্রথম প্রশ্ন—এটি কি শুধু একটি সামরিক বিদ্রোহ ছিল? নাকি এর পেছনে আরও বড় রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা কাজ করছিল?

বিগত কয়েক দশকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ভাষ্য, বই, সাক্ষাৎকার এবং গবেষণায় এই প্রশ্ন নতুনভাবে ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করেন, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা এবং স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। আবার অন্য বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, পদোন্নতিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার প্রতিযোগিতাই ছিল মূল কারণ; যদিও তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংযোগের বিষয়টি তারা উড়িয়ে দেননি।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তা ছিল বহুমাত্রিক। প্রথমত, বিএনপি তখনো পুরোপুরি সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত হয়ে ওঠেনি এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অনেকাংশেই ছিল ব্যক্তিনির্ভর। দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তৃতীয়ত, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সম্ভবত বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতি ভিন্ন পথে যেত, কারণ তিনি ধীরে ধীরে সামরিক শাসন থেকে নির্বাচনী গণতন্ত্রে উত্তরণের একটি কাঠামো তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যু সেই প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেশে আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ উন্মোচন করে।

দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তার মৃত্যুর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন, জনশক্তি রপ্তানি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতা দেখতে শুরু করেছিল জনগণ। তার স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালীকরণ সুশাসন ও উন্নয়নকে তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার কাজকে বেগবান করেছিল। তিনি আরও সময় পেলে গ্রামীণ উন্নয়নের একটি টেকসই মডেল প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও প্রতিশোধমূলক সংঘাতে নিমজ্জিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা কমে যায়, সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়ে এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে তাৎক্ষণিক ক্ষমতার রাজনীতি প্রাধান্য পেতে শুরু করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তার হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও সংঘাতমুখী করে তোলে।

শহীদ জিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অবদান ছিল জাতীয় আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিকভাবে অবহেলিত একটি দেশকে আত্মনির্ভরতার ভাষা শেখানো। তার ‘উৎপাদন বাড়াও, দেশ গড়’ ধরনের রাষ্ট্রচিন্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল। শহীদ জিয়া গ্রামবাংলার মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি সংযোগ তৈরি করেছিলেন। ফলে বাংলাদেশ একটি নাগরিক রাষ্ট্র হয়ে ওঠার পথ প্রশস্ত হয়েছিল।

তিনি প্রশাসনিক বাস্তবতায় বিশ্বাসী ছিলেন বলে তার বক্তব্যে আদর্শিক বয়ানের চেয়ে ফলাফলভিত্তিক আলোচনা বেশি স্থান পেত। কৃষি, যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার এবং বৈদেশিক সম্পর্ক—সবখানেই তার নীতি ছিল ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গিকেন্দ্রিক। তিনি ছিলেন ‘উন্নয়নমুখী জাতীয়তাবাদী নেতা’।

শীতল যুদ্ধের সময়কালে দক্ষিণ এশিয়া ছিল বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ভারত, চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র—সবাই এই অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছিল। বাংলাদেশও সেই ভূরাজনৈতিক হিসাবের বাইরে ছিল না। জিয়াউর রহমানের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীন কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের নীতির ভিত্তি স্থাপন করে দিয়েছিল।

বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান, যেখানে বাম, ডান, ইসলামপন্থি, জাতীয়তাবাদী—বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ যেন অংশ নিতে পারে। ফলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত তৈরি হয়।

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণার মাধ্যমে তিনি জাতীয় পরিচয়কে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের চরম বর্ণবাদী, সামন্ততান্ত্রিক ও ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শ ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর বিপরীতে বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক নাগরিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের ফর্মুলা দিয়েছিলেন।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের মূলে ছিল বাস্তববাদ। তিনি আবেগের রাজনীতির চেয়ে রাষ্ট্রের কার্যকারিতা, উৎপাদন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিতেন। আজও বাংলাদেশে তার রাজনীতি নানা বিতর্কের মধ্যেও প্রাসঙ্গিক, কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো জাতীয় ঐক্য, কার্যকর গণতন্ত্র, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আত্মমর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার সংকটে ভুগছে।

তাই তার হত্যাকাণ্ড শুধু একটি রাষ্ট্রপতির মৃত্যু নয়; এটি ছিল বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ধারার আকস্মিক বিচ্ছেদ। চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসের সেই রাত শুধু অতীত নয়; এটি এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতি, বেদনা এবং অপূর্ণ প্রশ্নোত্তরের অংশ।

যখন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুত সংগঠিত হচ্ছিল এবং একটি জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছিল, ঠিক তখনই তার হত্যাকাণ্ড জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা ধ্বংস করে দেয়। জিয়াউর রহমান চেষ্টা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিভক্ত সমাজকে একটি জাতীয়তাবাদী কাঠামোর মধ্যে আনতে; তার হত্যাকাণ্ড সেই প্রচেষ্টাকে শেষ করে দেয়।

বাংলাদেশ হয়তো অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে; কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐকমত্যের যে ঘাটতি আজও রয়ে গেছে, তার শিকড় খুঁজতে গেলে আমরা জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সম্মুখীন হই।

আজ বাংলাদেশপন্থার অন্য নাম জিয়াউর রহমান।

লেখক : জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা ও কলামিস্ট

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জিয়াউর রহমান   সংগ্রাম   সাহস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close