স্থবিরতার উত্তরাধিকার—যানজটে বিপর্যস্ত ঢাকা। নাগরিকের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে এটি শহরের জ্বালানি খরচ বাড়াচ্ছে ও জীবনযাত্রার মান কেড়ে নিচ্ছে। একটি আদর্শ শহরে সাধারণত মোট আয়তনের অন্তত ২৫% সড়ক থাকা প্রয়োজন, যেখানে ঢাকায় এ হার মাত্র ৭-৮%। অন্যদিকে, গ্লোবাল ডাটাবেজ নাম্বিওর ট্রাফিক সূচক অনুযায়ী, যানজট ও দীর্ঘ যাতায়াত সময়ের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত শহর। এখানে বিস্ময়কর বাস্তবতা হলো, ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু করা ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা আজও মোটা দাগে সেই শতাব্দীপ্রাচীন ফিক্সড-টাইম প্রযুক্তির গণ্ডি ছাড়াতে পারেনি। নানা সময়ে প্রকল্প বদলেছে, কন্ট্রোলার বদলেছে, নাম বদলেছে; কিন্তু বদলায়নি প্রাচীন ফিক্সড-টাইম প্রযুক্তি।
বিশ্ব যখন এআইতে, ঢাকা তখন শতাব্দীপ্রাচীন প্রযুক্তিতে
বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর রিয়েল-টাইম অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করেছে, তখন ঢাকায় সেকেলে ফিক্সড-টাইম ও ম্যানুয়াল পদ্ধতির সংমিশ্রণের সিগন্যাল বসানো হচ্ছে। এ পুরোনো প্রযুক্তি রাস্তার বাস্তব যানবাহনের পরিস্থিতি বুঝতেই পারে না। ফলে একদিকে প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে ফাঁকা রাস্তায় অহেতুক লাল বাতি জ্বলতে থাকে। অধিকন্তু, একটি মোড় পার হওয়ার পর পরবর্তী মোড়ে আবার লাল বাতিতে আটকে পড়া প্রমাণ করে যে একাধিক সংযোগস্থলের মধ্যে কার্যকর ও ফলপ্রসূ সমন্বয়ের সম্পূর্ণ অভাব রয়েছে।
পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্যও এ ব্যবস্থা যথেষ্ট নমনীয় নয় এবং জরুরি যানবাহন (যেমন অ্যাম্বুলেন্স) অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি যানবাহনের ঘনত্ব, গতি বা প্রতীক্ষার দৈর্ঘ্য বুঝতে পারে না; অর্থাৎ সিস্টেমটি সম্পূর্ণ ‘অন্ধ’ ও ‘স্থির’। ফলে মিশ্র ও অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক প্রবাহ আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। তাই আধুনিক ও ব্যস্ত নগরীর চাহিদা পূরণে, বিশেষ করে ঢাকার মতো জটিল ট্রাফিক ব্যবস্থায়, এ শতবর্ষ পুরোনো প্রযুক্তি একেবারেই অকার্যকর এবং সময়োপযোগী নয়।
বিশেষজ্ঞদের বিশেষ অজ্ঞতা
‘অভ্যস্ত করার’ অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে নতুন করে আবারও সেই সেকেলে প্রযুক্তিনির্ভর সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীতে স্থাপিত ৭টি শতাব্দীপ্রাচীন ফিক্সড-টাইম সিগন্যালের প্রস্তুতকারক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে অন্তত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপনের লক্ষ্যে গঠিত নির্বাহী কমিটির ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত যোগাযোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান জানান, ‘আমরা প্রথমে মানুষকে ডিজিটাল সিগন্যালে অভ্যস্ত করতে চাই। মানুষ যখন সিগন্যাল মানবে, তখন আমরা ধাপে ধাপে আরও উন্নত প্রযুক্তিতে যাব।’
প্রশ্ন হচ্ছে, এই ‘অভ্যস্ত করার’ প্রক্রিয়া আর কতদিন চলবে?
১৯৭৭ থেকে ২০২৬—প্রায় অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেল। তাহলে বাস্তব সমাধান আসবে কবে? এআই কি বিশৃঙ্খলার মাঝে কার্যকর নয়?
তার আরেকটি বক্তব্য হলো, ‘ঢাকা শহরে যেখানে রিকশাসহ ২২ ধরনের যানবাহন চলে এবং জ্যামিতিক সীমাবদ্ধতা আছে, সেখানে এআই নিরুপায়।’ কিন্তু বাস্তব বিশ্বের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। ভারতের বেঙ্গালুরু, কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি; নাইজেরিয়ার লাগোস; কলম্বিয়ার বোগোটা; তানজানিয়ার দার এস সালাম—যেখানে ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা ঢাকার চেয়ে কম নয়, সেখানেই এআইভিত্তিক অ্যাডাপটিভ সিগন্যাল সাফল্য দেখিয়েছে। গবাদিপশু, রিকশা, পথচারীর মিশ্র ট্রাফিক সেখানকার শহরে এআইকে ‘নিরুপায়’ করতে পারেনি। অর্থাৎ ‘বিশৃঙ্খল ট্রাফিকে এআই কাজ করবে না’—এ ধারণাকে ভারত, নাইজেরিয়া ও কলম্বিয়ার মতো উন্নয়নশীল এবং বিশৃঙ্খল ট্রাফিকে পূর্ণ শহরগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।
মানদণ্ড : আন্তর্জাতিক নাকি স্বপ্রণীত?
প্রযুক্তির মান নিয়ন্ত্রণ ও স্থায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বুয়েটের আছে।’ আরও উল্লেখ করেন, ‘ট্রাফিক সিগন্যাল কোনো রকেট সায়েন্স নয়; আমাদের দেশের কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেই সক্ষমতা রয়েছে, যাতে নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করে একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।’
সত্যিই, এটি রকেট সায়েন্স নয়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আন্তর্জাতিক মান উপেক্ষা করে মনগড়া স্ট্যান্ডার্ড চালু করা যাবে। একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
এখন প্রশ্ন : যখন একই প্রতিষ্ঠান ঠিকাদার, প্রস্তুতকারক, মান নির্ধারক ও মান নিয়ন্ত্রক—একাধারে সব ভূমিকায় থাকে, তখন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা কীভাবে সম্ভব? নিজের পণ্যের মান নিজেই যাচাই করার সুযোগ কি স্বার্থসংকট তৈরি করে না?
আন্তর্জাতিক মান বাদ দিয়ে নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ড চালু করলে অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সেই যন্ত্রাংশ বোঝা বা সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে তৈরি হয় একচেটিয়া বাণিজ্যিক ব্যবস্থা (মনোপলি)। ভবিষ্যতে সরকার ও ভোক্তা উভয়েই জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
চলতি বছরের ৭ মে ডিএমপি পরীক্ষামূলকভাবে এআইভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও আইন প্রয়োগে এটি নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর প্রযুক্তি। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্ট করা জরুরি : এ প্রযুক্তি মূলত এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার একটি সহায়ক যন্ত্রাংশ বা অক্সিলারি কম্পোনেন্ট মাত্র; এটি নিজে ‘এআইভিত্তিক অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম’ নয়।
যোগাযোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, ‘এআই হলো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আনার শেষ ওষুধ (দাওয়া)। এ উদ্যোগ হোঁচট খেলে আর কিছু করার থাকবে না।’
তার এ মন্তব্য সম্ভবত এআইভিত্তিক ট্রাফিক ভায়োলেশন ডিটেকশন সিস্টেমকে এআইভিত্তিক অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম হিসেবে ধরে নিয়ে করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক নয়। এরূপ মন্তব্য প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
বাস্তবতা হলো, ঢাকায় এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ এআইভিত্তিক অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম স্থাপন, চালু বা কার্যকরভাবে পরীক্ষামূলক পরিচালনাও করা হয়নি। আরও স্পষ্ট করে বললে, এআইভিত্তিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং এআইভিত্তিক অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক সিগন্যাল কন্ট্রোল—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রযুক্তি। একটিকে অন্যটির বিকল্প বা সমার্থক হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। প্রথমটি শুধু আইনের লঙ্ঘন চিহ্নিত করে, অপরটি ট্রাফিকের চাপ বুঝে সংকেত ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা বজায় রেখে এআইয়ের বিভিন্ন প্রয়োগকে আলাদাভাবে বোঝা ও মূল্যায়ন করা জরুরি। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, এআইভিত্তিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আনার শেষ ওষুধ নয়।
অনভিজ্ঞ হাতে ব্যর্থতার ঝুঁকি
যাদের বিশ্বের কোনো শহরেই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ঠিকাদার, প্রকৌশলী বা পরামর্শক হিসেবে বাস্তব কাজের পূর্ব-অভিজ্ঞতা নেই এবং আধুনিক এআইভিত্তিক অ্যাডাপটিভ সিস্টেম বাস্তবায়নের জ্ঞান ও দক্ষতা সীমিত, তাদের হাতে ঢাকার মতো জটিল নগরীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সংশয় জাগে, কারণ এ সিদ্ধান্ত সফল হবে কীভাবে?
ঢাকার জন্য প্রয়োজন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ, অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও পরামর্শক দল, যারা এআইভিত্তিক অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রমাণিত অভিজ্ঞতা রাখেন।
বারবার পুরোনো প্রযুক্তিতে ফেরার রহস্য
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও ঢাকার প্রতিটি ট্রাফিক প্রকল্প কেন একই সেকেলে ফিক্সড-টাইম প্রযুক্তিতে ফিরে যায়? এআই যুগে আবার কেন সেই পুরোনো ব্যবস্থা বেছে নেওয়া হচ্ছে? কারণ কি প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, নাকি বাণিজ্যিক স্বার্থ?
যে প্রযুক্তি ২০০১-২০০৫, ২০০৬, ২০১৩ ও ২০২২ সালেও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে—সেই একই প্রযুক্তি ২০২৬ সালে এসে সফল হবে, এমনটা ভাবার কারণ কী?
তবে কি পরিত্রাণ নেই?
আধুনিকীকরণের নামে শতবর্ষপ্রাচীন ফিক্সড-টাইম প্রযুক্তির পুনরাবৃত্তি, দেশীয় প্রযুক্তির নামে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সংস্করণ, অটোমেশনের নামে ম্যানুয়াল পদ্ধতি, প্রগ্রেসিভ ট্রাফিক সিগন্যালের নামে ১৯৩০ সালের ফিক্সড-টাইমড গ্রিন ওয়েভ, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের বদলে স্বপ্রণীত মান—এসব দিয়ে নারকীয় যানজট থেকে এ শহরের পরিত্রাণ নেই।
পরিত্রাণের পথ : এআইভিত্তিক ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাডাপটিভ সিগন্যাল
স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা তিন ধরনের : ফিক্সড-টাইম (ঢাকা যেখানে আটকে আছে), অ্যাকচুয়েটেড (সীমাবদ্ধ) এবং অ্যাডাপটিভ (আধুনিক)। কেন্দ্রীভূত অ্যাডাপটিভ সিস্টেমেরও সীমাবদ্ধতা আছে—সার্ভারনির্ভর, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত হয় সুরট্রাক, বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক, রিয়েল-টাইম, এআইভিত্তিক ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম।
এটি কীভাবে কাজ করে?
১। প্রতিটি মোড়ের ক্যামেরা থেকে তথ্য তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ করে।
২। নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয় (কোনো সেন্ট্রাল বস নেই)।
৩। নিজেই ট্রাফিক অপ্টিমাইজেশনের অ্যালগরিদম তৈরি করে।
৪। আলাদা সিগন্যাল টাইমিং প্ল্যান আপলোডের প্রয়োজন হয় না।
৫। স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিপ ও ট্রাফিক গণনা করে।
৬। পাশের মোড়ের সঙ্গে নিজে থেকেই যোগাযোগ করে, কথা বলে।
৭। কোনো লাইসেন্স খরচ নেই, ওয়াই-ফাই লাগে না।
৮। ব্যাটারি ব্যাকআপ ও অফলাইন মোড আছে।
৯। পথচারী অগ্রাধিকার, জরুরি যান প্রি-এম্পশন এবং দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়।
১০। ২৪/৭/৩৬৫ স্বপর্যবেক্ষণ করে ত্রুটি শনাক্ত ও সতর্ক করে, ফলে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয়।
ঢাকার জটিল ট্রাফিকের জন্য এটি যেন তৈরি। নিখুঁত লেন বা নির্দিষ্ট যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল নয়; গাড়ি, রিকশা, সিএনজি, পথচারী—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রতি সেকেন্ডে টাইমিং প্ল্যান সমন্বয় করে। স্পিলব্যাক নিয়ন্ত্রণ করে, ট্রাফিক রি-রাউটিং করে এবং গতিশীল গ্রিন ওয়েভ তৈরি করে। এটি ঢাকার মিশ্র ও অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিককেও মসৃণ করতে সক্ষম।
পাইলট প্রকল্প : বাস্তবসম্মত শুরু
প্রথম ধাপে গুলশান-সচিবালয় বা মিরপুর রোডের মতো উচ্চ যানচাপপূর্ণ করিডরে ১৫-২০টি ইন্টারসেকশন নিয়ে পাইলট চালু করা যেতে পারে। বাস্তব ডেটা সংগ্রহ করে সাফল্য প্রমাণিত হলে পুরো নগরীতে সম্প্রসারণ করা যাবে।
সিদ্ধান্তের সংকট
ঢাকার যানজট কোনো অবধারিত নিয়তি নয়; এটি দীর্ঘদিনের নীতিনির্ধারণ, প্রযুক্তি নির্বাচন ও বাস্তবায়নের ব্যর্থতার ফল। প্রশ্ন : আমরা কি বারবার একই অকার্যকর ফিক্সড-টাইম ব্যবস্থা আঁকড়ে থাকব, নাকি আধুনিক অ্যাডাপটিভ প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হব?
নাইজেরিয়া বা কলকাতা যদি পারে, ঢাকা কেন পারবে না? ঢাকায় প্রকৃত এআইভিত্তিক ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাডাপটিভ ট্রাফিক কন্ট্রোল পরীক্ষা করে দেখতে সমস্যা কোথায়?
নাকি ২০৫২ সালে গিয়ে আবার পড়তে চাইব : ‘ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যালের ৭৫ বছর : শতাব্দীপ্রাচীন ফিক্সড-টাইম প্রযুক্তির গণ্ডিতে বন্দি’?
এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। আর অপেক্ষা নয়।
লেখক : প্রকৌশলী, এআই ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম সল্যুশন প্রোভাইডার ও ট্রাফিক সিগন্যাল বিশেষজ্ঞ
কেকে/এলএ