পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের অসুস্থ মোসলেম ফরায়জির পরিবারকে ঘিরে চলমান পারিবারিক বিরোধ ও মানবিক সংকটের ঘটনায় অবশেষে প্রশাসনের দৃষ্টি পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটানো পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সমাজসেবীরা। এতে পরিবারটির মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও নতুন আশার আলো।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা এবং দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তারা অসুস্থ মোসলেম ফরায়জি ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মোসলেম ফরায়জি তার প্রাপ্য পৈত্রিক সম্পত্তি স্ত্রী ও পাঁচ কন্যার নামে দলিল করে দেওয়ার পর পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্বজন বিভিন্ন সময়ে পরিবারটির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। এমনকি বসতঘর দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।
পরিবারটির অসহায় অবস্থার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়।
সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ইউএনও ও ওসি জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দশমিনা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মেসার্স জামাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জামাল হোসেন। তিনি অসহায় পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন এবং ভবিষ্যতে ঘর নির্মাণের জন্য টিনসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় পরিবারটির পাশে থাকবে। তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আতিকুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ