‘১৫ বছর সংসার করলাম, দুই সন্তানের মা হলাম। আদালতের মাধ্যমে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলাম। অথচ আজ আমার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে নতুন স্ত্রীকে ঘরে তুলেছে। আমি আমার অধিকার চাই, আমার সংসার ফেরত চাই।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের সুবীর ডাক্তার পাড়ার দুই সন্তানের জননী মেহেরুন আক্তার।
দ্বিতীয় বিয়ের খবর পেয়ে ১৫ বছরের সংসার ফিরে পাওয়ার দাবিতে তিনি স্বামী আবু তাহেরের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকাল থেকে শুরু হওয়া এ অনশনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় দশক আগে আবু তাহেরের সঙ্গে মেহেরুন আক্তারের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের সংসারে তাদের দুই সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় টানাপোড়েন। একপর্যায়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে মেহেরুন আক্তার আদালতের দ্বারস্থ হন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
মেহেরুন আক্তারের দাবি, ওই মামলায় আবু তাহের প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। পরে আদালতের মাধ্যমে পুনরায় সংসার করার আশ্বাস ও সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু সেই সমঝোতার পরও সংসার টেকেনি।
বরং জামিনে মুক্তির পর আবু তাহের আরেকটি বিয়ে করে নতুন স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ তার।
এই খবর জানার পরই ক্ষোভ, বেদনা ও হতাশা নিয়ে স্বামীর বাড়িতে এসে অবস্থান নেন মেহেরুন। এরপর শুরু করেন অনশন।
তার দাবি, একজন বৈধ স্ত্রী হিসেবে তিনি তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অনশনরত মেহেরুন আক্তার বলেন, ‘আমি আমার যৌবনের ১৫ বছর এই সংসারে দিয়েছি। দুই সন্তানকে বড় করেছি। আদালতের মাধ্যমে সংসার করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ আমাকে দূরে সরিয়ে রেখে নতুন সংসার করা হচ্ছে। আমি কোথায় যাব? আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমার ন্যায্য অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে উঠব না।’
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আবু তাহেরের বাড়িতে ভিড় জমায় উৎসুক মানুষ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। অনেকেই বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের সংসার, দুই সন্তান ও আদালতের সমঝোতার পর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তারা বিষয়টির দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান চান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহেরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেহেরুন আক্তার স্বামীর বাড়িতেই অনশনরত ছিলেন।
কেকে/এমএ