ভারতের কলকাতার একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া রোজিনা আক্তার। সেখানে বাবা-মা ও পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তাদের জীবন। সম্প্রতি ভারতীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাবা-মা ও ভাইবোনসহ ১১ জনকে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। যে চোখে একসময় লেখাপড়া করে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল, আজ সেই চোখেই ভয়, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার ছাপ।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনো সমাধান। দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও হয়নি কোনো সুরাহা। ফলে তিন দিন ধরে সীমান্তসংলগ্ন জমিতেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কখনো প্রখর রোদে, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে খাবার ও গোসলের সুযোগ ছাড়াই বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই করছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীরা মানবিক কারণে কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর প্রতিবন্ধী ছোট ভাই এবং ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাকে নিয়ে রোজিনার কান্না যেন থামছেই না। দ্রুত বাড়ি ফেরার আকুতি তার।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ৫ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এসের কাছে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হেফাজতে নেয় এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে, যেখানে আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের দাবি, ভারতীয় পুলিশের একটি গাড়িতে করে ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে নেওয়ার পর একদিন সেখানে রাখা হয়। পরে ৬ জুন রাতে সীমান্তের দিকে পাঠানো হলে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধানের চেষ্টা করছি।”
কেকে/এলএ