সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম: ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি      ১৬ মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ      অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি বিনিয়োগে বড় পরিকল্পনা      রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ      ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা      ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা      ভারতে মোদি সরকারের পতনের শঙ্কা তৈরি করছে ‘তেলাপোকা পার্টি’      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত দুদিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

গতকাল দুপুরে উপজেলার উত্তরসুর গ্রামে দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাতনামা ৩৫ বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সামছু মিয়া (৩০)। আহত ব্যক্তির বাড়ি রংপুর জেলায় বলে জানা গেছে।

এর আগে গত শনিবার বিকালে একই স্থানে জয়ন্তিকা ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এনামুল মিয়া ফাহিম (২৫) এবং মো. সিয়াম (১৮) নামে দুইজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। এর মধ্যে এনামুল মিয়া ফাহিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত ও নিহতের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায়।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রোববার দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল একই স্থানে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ মার্চ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া পুঞ্জি এলাকায় ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে জুবায়ের আহমেদ (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। দেশে আইন থাকার পরও কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, সেই প্রশ্নই বারবার সামনে আসছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধ করতে রেল কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও সবসময় তা কার্যকর থাকে না। ফলে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির সুযোগে যাত্রীরা ছাদে উঠে পড়েন। গতকাল ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন ব্যবসায়ী হৃদয় মিয়া। তিনি বলেন, বছরের পর বছর একই জিনিস দেখে আসছি। ছাদে চড়ে যাওয়া ভয়ের হলেও একশ্রেণির যাত্রী ভয় পায় না।

পুলিশকে দেখেছি, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকে, মাঝেমধ্যে ধমক দেয়। তবে এভাবে আসলে সমস্যার সমাধান সম্ভব না।

পাহাড়িকা ট্রেনের আরেক যাত্রী রুহুল আলম বলেন, ‘বাসের চেয়ে ট্রেন নিরাপদ। বাসযাত্রায় বেশি এক্সিডেন্ট হয় এবং জ্যামে দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়। তার চেয়ে ট্রেনে যাওয়া ভালো। এ কারণে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে হলেও ট্রেনেই যেতে চায়।’

সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সমস্যার মূল জায়গায় সমাধান দরকার। ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানো, টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে সেই চাহিদার সঙ্গে সক্ষমতার সমন্বয় না হলে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার এই চিত্র পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণ গুরুতর অপরাধ। কার্যকর রেলওয়ে অ্যাক্ট ১৮৯০ অনুযায়ী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত নয়—এমন স্থানে (যেমন—ছাদ বা ফুটবোর্ড) ভ্রমণ করা অপরাধ। রেলকর্মীদের সতর্কতার পরও কেউ এভাবে ছাদে ভ্রমণ করলে তাকে জরিমানা করা এবং জোর করে নামিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২২ সালে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন, কোনো অবস্থাতেই ট্রেনের ছাদে যাত্রী বহন করা যাবে না। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘ট্রেনের ছাদে ওঠা যেমন অপরাধ, তেমনই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে বসে ভ্রমণ করছেন। একজন যাত্রী নিজেই নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান-জরিমানা করা হচ্ছে এবং রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে বসে ভ্রমণ এবং বিনা টিকিটে ভ্রমণ দুটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা যাত্রীদের ছাদে ওঠা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও অনেকেই বাধা উপেক্ষা করে ট্রেনের উপরে উঠে পড়েন। মাইকিং করে বারবার সতর্ক করা হলেও তাতে খুব একটা কাজ হয় না। মূলত যাত্রীদের অসচেতনতার জন্যই এ ভয়াবহ প্রবণতা থামছে না।’

জানা যায়, রেললাইনের পাশে বৈদ্যুতিক তার ও গাছের ডাল থাকায় ছাদে ওঠা যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত ও আহত হচ্ছেন। এছাড়া কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় ঘন বন ও বাঁকানো লাইনের কারণেও ঝুঁকি অনেক বেশি।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ট্রেন   ছাদ   ভ্রমণ   মৃত্যুঝুঁকি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close