মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
শিরোনাম: আজ ‘ছায়া বাজেট’ পেশ করবে জামায়াত      এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় সফল হয়েছে সরকার      চট্টগ্রামে সাড়ে চার বছরে ডেঙ্গুতে ২২১ জনের মৃত্যু      পরিকল্পনায় আটকা বিকল্প রপ্তানি খাত      সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪      প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়      তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বহুমুখী উদ্যোগ হজকে করেছে সহজ
এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় সফল হয়েছে সরকার
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:২১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

নতুন সরকারের প্রথম হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হজকে স্বস্তির করেছে। হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ, আবাসন ব্যবস্থা, বিমান পরিবহন ও সৌদি আরবে সার্বিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপগুলো হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমিয়েছে। হজ পালন শেষে দেশে ফেরা হাজিরা সরকারের নানা উদ্যোগের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন অনেক হাজি। তারা হজ পালনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাজিরা সৌদি সরকারের সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী অনেক হাজি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হজ পালনের পরামর্শ দেন।

এদিকে, সফল হজ ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি হজযাত্রীদের সেবায় ব্যক্তিগতভাবে একগুচ্ছ উদ্যোগ গ্রহণ করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মশক নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে হজক্যাম্পে ওষুধসহ দুটি ফগিং মেশিন সরবরাহ করেন। এ ছাড়া তিনি হজযাত্রীদের লাগেজ বিনামূল্যে র‌্যাপিং সুবিধা দিতে সরবরাহ করেন দুটি র‌্যাপিং মেশিন। এ র‌্যাপিং মেশিনের জন্য প্রয়োজনীয় র‌্যাপিং পেপারও সরবরাহ করেন তিনি। পাশাপাশি হজ ফ্লাইটের শুরু থেকে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত হজক্যাম্পে উপস্থিত থেকে হজযাত্রীদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এমনকি হজক্যাম্পে সৌদি রিয়াল চুরি হয়ে যাওয়া এক দম্পতিকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই হাজার রিয়াল দেন ধর্মমন্ত্রী।

এর বাইরেও এ বছর হজযাত্রা সহজ ও মসৃণ করার লক্ষ্যে রাজধানীর আশকোনাস্থ সরকারি হজক্যাম্পে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়। হজযাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হজক্যাম্পে এক লাখ বোতল মিনারেল ওয়াটার সরবরাহ করা হয়। হজযাত্রীদের রিসেপশনে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্কাউটস ও আনজুমান-ই-খাদেমুল হজের পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয় অতিরিক্ত জনবল। হজযাত্রীদের আবাসন ও খাবারের সুবন্দোবস্ত করা হয়। হজক্যাম্পের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় পেশাদার লোকবল। নারী হজযাত্রীদের জন্য এ বছর ওজুখানাসহ পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। হজযাত্রীদের সঙ্গে আগত ব্যক্তিদের জন্য হজক্যাম্পের উত্তর-পূর্ব পাশে স্থাপন করা হয় টয়লেট।

বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া সম্পাদনের ক্ষেত্রেও এ বছর সরকারের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সৌদি সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের জন্য অনলাইনে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। কিন্তু বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও কয়েকটি হজ এজেন্সি বাড়িভাড়া নিয়ে কালক্ষেপণ করছিল। ফলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের হজ পালন অনিশ্চয়তায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় হাব ও আরও কয়েকটি সরকারি সংস্থাকে নিয়ে একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে হজ এজেন্সিগুলোকে যথাসময়ে বাড়িভাড়া সম্পন্ন করানো হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্যও এ বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। হজে মেডিকেল ফিটনেসের বিষয়ে সৌদি সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে মেডিকেল ফিটনেস সনদের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে এসে নির্ধারিত হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নিতে হতো। কিন্তু এ বছর ধর্মমন্ত্রীর পরামর্শে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হাবের সঙ্গে আলোচনা করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থানরত দেশেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে ফিটনেস সনদ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

হজ ফ্লাইটের প্রথম ধাপে দেখা দেওয়া সংকটও সমাধান করা হয় দ্রুত। চুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ পরিবহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বাকি ৫০ শতাংশ সাউদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স। হজ ফ্লাইটের প্রথম ফেজে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট সংখ্যা কম থাকায় যাত্রী পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। প্রথম ফেজে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে হজযাত্রীদের টিকিটের যে চাহিদা ছিল, সেটা মেটানোর জন্য দুটি অতিরিক্ত ফ্লাইটের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ দুটি ফ্লাইট ছাড়া হজ এজেন্সি থেকে শতভাগ টিকিটের পে-অর্ডার পাওয়া সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও হাবের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে বসেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সৌদি বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (গাকা)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন ফ্লাইট অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান ধর্মমন্ত্রী। ঢাকা থেকে প্রত্যাশিত অনুমোদন মেলে, কেটে যায় আরেকটি সংকট। নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও বিমানের টিকিট ইস্যুর কাজ।

প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে এ বছর চালু করা হয় ‘আইকমিউন’ অ্যাপ। মিনা ও আরাফায় তাঁবু হারিয়ে ফেলার সমস্যার সমাধানে অ্যাপটিতে মক্তব ও খুঁটি নম্বরসহ তাঁবুর অবস্থান গুগল ম্যাপের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। ফলে যেকোনো হাজি সহজেই নিজের তাঁবুর অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনার হোটেলও এ অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করার সুযোগ ছিল।

সৌদি পর্বের হজ ব্যবস্থাপনাও ছিল সুপরিকল্পিত ও সুবিন্যস্ত। নিরাপত্তা জোরদার, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং তীব্র গরম মোকাবিলায় সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে হজযাত্রীরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন করতে পেরেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ৯৭টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৪১ হাজার ২৩২ জন হাজি। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৮ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ জন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্ক প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৪১ হাজার ২৩২ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৭ হাজার ৯০৪ জন রয়েছেন। আর ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৫ হাজার ৭২২ জন, সৌদি এয়ারলাইনস ১৬ হাজার ১০৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজি পরিবহন করেছে। এখন পর্যন্ত মোট ৯৭টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪০টি এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর ফলে মোট হজযাত্রীর অর্ধেকেরও বেশি দেশে ফিরে এসেছেন। বাকি হাজিরা নির্ধারিত ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। আগামী ১ জুলাই হজের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হবে।

কেকে/এলএ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close