স্বামী হারিয়েছেন পাঁচ বছর আগে। দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে দোকানঘরের ভাড়া ও আয়েই চলছিল সংসার। সেই শেষ সম্বলও রক্ষা হলো না। ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে বুলডোজার দিয়ে দোকানঘর ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা টিন, ইট, কাঠ ও নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। কয়েকটি দোকানঘরের কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী দিলরুবা সুলতানা জানান, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর মৌজায় তাদের মালিকানাধীন ১১ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে। জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধ চলমান রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মজিবুর রহমান, জাকির হোসেন, আবির ও সুমন ঢালীসহ কয়েকজন বুলডোজার দিয়ে দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলেন।
গভীর রাতের সুযোগে পরিকল্পিতভাবে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দিলরুবা সুলতানা বলেন, ‘আমার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। দোকানঘরগুলো থেকেই আমাদের আয় হতো। এখন সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে চলব জানি না।’
তার মেয়ে এ্যানী বলেন, ‘জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে বুলডোজার দিয়ে দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এসব দোকান। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতের অন্ধকারে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনা ভাঙার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। কে বা কারা ভাঙচুর করেছে, সেটা আমার জানা নেই।’
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ির ইনচার্জকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ