এসে গেল মাহেন্দ্রক্ষণ। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনার কানায় কানায় পূর্ণতা। বুকভরা আবেগ ও ভালোবাসায় ঠাসা ফুটবল যেন দুনিয়ার অতুলনীয় খেলা। প্রিয় দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কিংবা জার্মানির সমর্থনে বাড়িঘর সাজানো, ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো এবং সমর্থকদের নানা আয়োজনে বর্ণিল উৎসবে মাতোয়ারা সারা পৃথিবী।
সেই ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই অবশেষে শুরু হচ্ছে আজ। রাত ১টায় পর্দা উঠছে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর। এবারের আসরে খেলছে রেকর্ড ৪৮টি দল। তিনটি দেশের যৌথ আয়োজনে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। আকার ও আয়োজনের দিক থেকে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ বিশ্বকাপ। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ এখন উত্তর আমেরিকার দিকে। লাখ লাখ সমর্থক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ভিড় জমিয়েছেন।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধনে মাতবে সারা পৃথিবী। আজকের প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকো স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। ছয় সপ্তাহব্যাপী এ বিশাল আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটবে ১৯ জুলাই নিউজার্সির ৮২ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মাধ্যমে।
এদিকে ৩৮ বছর বয়সে লিওনেল মেসি কি পারবেন আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতিয়ে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হওয়া নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে? নাকি তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ৪১ বছর বয়সি ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো সময়কে হার মানিয়ে প্রতিভাবান পর্তুগাল দলকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেবেন? অথবা হ্যারি কেনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড কি ১৯৬৬ সালের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতবে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এ আসরকে ‘পৃথিবী কখনো দেখেনি এমন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী’ বলে অভিহিত করেছেন।
সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার। অথচ ২০২৬ সালে ফিফার বিক্রি করা সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার। ১০৪টি ম্যাচজুড়ে এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেখা গেছে। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক ম্যাচের টিকিট এখনো পুনর্বিক্রয় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
এমনকি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ মূল্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচের টিকিটের মূল্য ১ হাজার ডলার শুনে তিনি বলেন, সত্যি বলতে, আমিও এত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতাম না।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রভাব:
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রভাবও বিশ্বকাপের ওপর পড়েছে। ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার প্রথমটি ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ইরান তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়নায় নিয়ে গেছে। খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেলেও দলের প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরান এ ঘটনাকে ‘ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণ’ বলে নিন্দা করেছে।
৩২ থেকে ৪৮ দল:
এবারের আসরে দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করায় গ্রুপ পর্বের প্রতিযোগিতামূলক উত্তেজনা কিছুটা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম রাউন্ডে মোট ৭২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, অথচ বাদ পড়বে মাত্র ১২টি দল। নকআউট পর্বে উঠবে ৩২টি দল প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল।
আরও বেশ কিছু নতুনত্ব:
এ বিশ্বকাপে আরও বেশ কিছু নতুনত্ব দেখা যাবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে কুলিং ব্রেক থাকবে, যাতে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার প্রভাব কমানো যায়। খেলোয়াড় ও রেফারিদের বেশ কিছু নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
এর মধ্যে একটি হলো সময় নষ্ট ঠেকাতে দলগুলোকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে বদলি সম্পন্ন করতে হবে। বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কোনো খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন, তাহলে তিনি লাল কার্ড দেখার ঝুঁকিতে থাকবেন।
ফাইনাল ম্যাচটি হবে ইতিহাসের দীর্ঘতম ফাইনালের একটি:
আগামী মাসের ফাইনাল ম্যাচটি ইতিহাসের দীর্ঘতম ফাইনালগুলোর একটি হতে পারে। কারণ, এতে সুপার বোল-ধাঁচের হাফটাইম শো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যেখানে ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএস প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন। এর ফলে প্রচলিত ১৫ মিনিটের বিরতির পরিবর্তে হাফটাইম বিরতি প্রায় ২৫ মিনিট দীর্ঘ হবে।
তিনটি ঘটনায় মুখোমুখি হবেন মেসি-রোনালদো:
প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো শেষবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রায় ছয় বছর আগে। সেবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা নিজেদের মাঠে জুভেন্টাসের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। সেই ম্যাচে রোনালদো দুটি গোল করেন, আর মেসির দলকে হার মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। এরপর দুই কিংবদন্তির পেশাদার জীবনের পথ ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ায় আর তাদের মুখোমুখি হওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রয়েছে ‘জে’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
অন্যদিকে ‘কে’ গ্রুপে থাকা পর্তুগাল খেলবে কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
প্রথম পরিস্থিতি : যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল উভয়েই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে, তবে তারা প্রতিযোগিতার একই পাশে অবস্থান করবে। এরপর উভয় দল যদি রাউন্ড অব ৩২ ও রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে শেষ আটে তাদের মুখোমুখি হতে হবে।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি : যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল উভয়েই নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, তাহলে প্রতিযোগিতার বিন্যাস অনুযায়ী শেষ আটে তাদের দেখা হবে না। সেক্ষেত্রে তারা রাউন্ড অব ১৬ তেই একে অপরের মুখোমুখি হবে। তবে দুই দলের তুলনামূলক শক্তি এবং গ্রুপের প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এই সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
তৃতীয় পরিস্থিতি : যদি আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগালের মধ্যে একটি দল গ্রুপসেরা হয় এবং অন্যটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, তাহলে তাদের পথ আলাদা থাকবে একেবারে শেষ পর্যন্ত। সেই ক্ষেত্রে মেসি ও রোনালদোর দেখা হতে পারে শুধু বিশ্বকাপের ফাইনালে, যা অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে।
মেসি ও রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ:
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপই হতে পারে মেসি ও রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। তাই ফুটবলপ্রেমীরা আরেকবার এই দুই মহাতারকাকে একই মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখার আশায় অপেক্ষা করছেন। আর যদি সেই লড়াই বিশ্বকাপের ফাইনালে হয়, তবে সেটি হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় একটি অধ্যায়।
প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি:
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র ১৩টি দল নিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বকাপের পরিধি বেড়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেয় ৩২টি দল। তবে ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, নতুন নতুন দেশের উত্থান এবং বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ফিফা এবার দলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছে ৪৮। নতুন ফরম্যাটে ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে।
প্রতিটি গ্রুপে থাকছে চারটি দল। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল মিলিয়ে মোট ৩২টি দল উঠবে নকআউট পর্বে। এরপর শুরু হবে রাউন্ড অব ৩২. রাউন্ড অব ১৬. কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের লড়াই।
ফিফার মতে, এই পরিবর্তনের ফলে এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলো আরও বেশি সুযোগ পাবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া অনেক দেশ এবার নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেয়েছে।
নতুন তারকাদের বিশ্বকাপ
বিশ্ব ফুটবলের প্রজন্ম বদলের একটি বড় মঞ্চও হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ২০২৬। মেসি ও রোনালদোর যুগ শেষ হওয়ার পথে। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহ্যাম, লামিন ইয়ামাল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এরলিং হালান্ড, জামাল মুসিয়ালা, ফিল ফোডেনসহ একঝাঁক তরুণ ফুটবলার। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চেই সাধারণত জন্ম নেয় নতুন কিংবদন্তি। তাই ফুটবলবিশ্বের নজর থাকবে তরুণদের ওপরও।
অর্থনীতির বিশ্বকাপ :
বিশ্বকাপ এখন শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি একটি বিশাল অর্থনৈতিক আয়োজন। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে ফিফার আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। টেলিভিশন সম্প্রচার, স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন, টিকিট বিক্রি এবং পর্যটন খাত থেকে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে। আয়োজক তিন দেশের বিভিন্ন সিটিতে লাখ লাখ পর্যটক সমাগমের আশা করা হচ্ছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং খুচরা ব্যবসায়ও এর বড় প্রভাব পড়বে।
মাঠের খেলা নিয়ন্ত্রণ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও :
চিকিৎসা থেকে যুদ্ধক্ষেত্র, শিক্ষা থেকে শিল্পকলা মানবসভ্যতার এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রবেশ করেনি। বিশ্বজুড়ে যে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটছে, তার ঢেউ এসে লেগেছে ফুটবলেও। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে এআই শুধু পার্শ্বচরিত্র নয়, একেবারে মূল মঞ্চেই হাজির। রেফারির সিদ্ধান্ত, দলের কৌশল, খেলোয়াড়ের শরীর, দর্শকের নিরাপত্তা সবকিছুতেই এখন যন্ত্রের চোখ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪৮ দলের এ বিশ্বকাপে শুধু খেলোয়াড়, কোচ কিংবা রেফারিই মাঠের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন না; তাদের পাশে থাকবে অদৃশ্য শক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী:
বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন ঐতিহাসিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় রচনা হতে যাচ্ছে। এবার সব নামিদামি দলকে হারিয়ে সোনালি ট্রফি ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ব জেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স এমনই ভবিষ্যত বাণী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশবরেণ্য জোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় তিনি এ স্ট্যাটাস দেন।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে ভবিষ্যত বাণী এবং ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফেসবুকে ওই জ্যোতিষী লেখেন, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক তুমুল উন্মাদনা।
সাধারণ মানুষ যখন দলগুলোর অতীত পরিসংখ্যান আর পারফরমেন্স নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে ব্যস্ত, তখন প্রচলিত সব ধারণাকে পাশ কাটিয়ে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত নিয়তি ইতোমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববাসী এমন কিছু অবিশ্বাস্য অঘটন আর চরম ট্র্যাজেডি দেখবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোটি ভক্তের বুকভাঙ্গা কান্না আর মাঠের রক্তক্ষয়ী লড়াই সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনকে বিদায় নিতে হবে সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকেই।
এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের সূর্যখ্যাত ব্রাজিল এবার ফাইনালের ঠিক আগের মুহূর্তে এসে ফুটবলের আকাশ থেকে অস্তমিত হবে। ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক দিনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রণাঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স। একদিকে থাকবে দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটিয়ে বিশ্বজয়ে মরিয়া ইংলিশরা, আর অন্যদিকে থাকবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির ফরাসিরা।
কিন্তু ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, কাপের একদম দ্বারপ্রান্তে গিয়ে এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাবে ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন। এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর বীরোচিত পরাজয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের, রানার আপের মর্যাদা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইংলিশদের।কারণ, ১৯ জুলাইয়ের সেই মোক্ষম ক্ষণে এক অনন্য এবং জাদুকরী আশীর্বাদ বর্ষিত হবে ফরাসিদের ওপর।
কেকে/ এমএস