সাভার পৌরসভা এলাকাকে মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডমুক্ত একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ক্লিন সাভার ও গ্রীন সাভার নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে দৈনিক খোলা কাগজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সাভার পৌর এলাকার বিদ্যমান নানা সমস্যা, জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে খোরশেদ আলম বলেন, “সাভারে মাদকের কোনো স্থান হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব।’
তিনি, ‘মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।
খোরশেদ আলম বলেন, “প্রতিবেশী, শিক্ষক, বন্ধু ও সহকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে। সামাজিক সচেতনতা ও ইতিবাচক মূল্যবোধের চর্চাই মাদক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।’
বিএনপির রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “যদি কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সে বিএনপির রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার হারাবে। এ ধরনের ব্যক্তিদের দলে কোনো স্থান দেওয়া হবে না।’
খোরশেদ আলম মনে করেন, সামাজিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ছাড়া মাদক নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে পরিবারভিত্তিক শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচেতনতা কার্যক্রম ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খোরশেদ আলম বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। সচেতনতা, শিক্ষা ও নৈতিক দিকনির্দেশনার সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া মাদকমুক্ত সাভার গড়া সম্ভব নয়।’
তিনি সাভারবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মাদক নির্মূলে সমাজের প্রতিটি মানুষকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি নিরাপদ, সুস্থ, সুন্দর ও আধুনিক সাভার গড়ে তুলতে পারব।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও খোরশেদ আলম সাভারে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেছেন। ফলে তার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে সাভার পৌরসভার আগামী মেয়র হিসেবে দেখতে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কেকে/এমএ