ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে একের পর এক বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় উপকারভোগী চাষিরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গভীর রাতে ইউনিয়নের চরডুব্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বৈদ্যুতিক পিলার থেকে তিনটি ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল ও কোর ওয়্যার নিয়ে যায় চোর চক্র।
মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বহেরশিয়া কেরানি খাল উত্তর চরকৃষ্ণজয় গ্রামে সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প মহুরি সেচ প্রকল্প এলএলপি ০৩৩ ও এসওএন-০১১ নাম্বার স্কিমের দুইটি বৈদ্যুতিক পিলার থেকে নতুন ছয়টি ট্রান্সফরমার নামিয়ে পাঁচটি ট্রান্সফরমারের মূল্যবান তামার (কপার) কয়েল ও কোর ওয়্যার খুলে নিয়ে যায়। আরেকটি অক্ষত অবস্থায় রেখে যায় চোর চক্র।
স্থানীয়রা বলছেন, ‘সময়ের অভাবে একটি ট্রান্সফরমার খুলতে না পেরে রেখে যায়।’
জানা গেছে, সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প-মহুরি সেচ প্রকল্প স্কিমের ট্রান্সফরমারগুলো সংশ্লিষ্ট সোনাগাজী বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তাদের অবহেলা ও তদারকির অভাবে অসংখ্য ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এভাবে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এসব চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও চোর চক্রের কেউ আটক না হওয়ায় চুরির হিড়িক বাড়ছে দিন দিন।
শুক্রবার (১২ জুন) সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপু বড়ুয়ার উপস্থিতিতে পাউবোর কার্য-সহকারী মহিউদ্দিনের কাছে চোরদের রেখে যাওয়া অক্ষত একটি ট্রান্সফরমার ও সাতটি ট্রান্সফরমারের বুশিং জিম্মায় দেওয়া হয়।
পাউবোর সেকশন অফিসার আবু মুসা রকি খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা স্কিমের কাজ সম্পূর্ণ করে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে ট্রান্সফরমারগুলো হস্তান্তর করেছি। এটি দেখার দায়িত্ব তাদেরও রয়েছে।’
সোনাগাজী পল্লী বিদ্যু সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। পাউবো আমাদের কাছে শুধু বিদ্যুতের লাইন হস্তান্তর করেছেম ট্রান্সফরমার নয়। আমরা শুধু বিদ্যুতের লাইন সংযোগ দেখাশোনা করি। ট্রান্সফরমার পাউবোর সম্পত্তি। এ জন্য এগুলো তাদের দেখাশোনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমি নতুন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন আমিরাবাদ মোশাররফ মোয়াজ্জেম হোসেন আলিম মাদ্রাসার ৮টি ফ্যান চুরি করে মাদক সেবনকারী রনি ও তার সহযোগীরা। তাদের মধ্যে একজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী।
কেকে/এমএ