চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি-রাজারবাজার সড়কের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় জনদুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শোভনছড়ি এলাকার মালোয়ারপুল, ভাঙ্গাপুল ও চিনিমনারপুল সেতুর বিভিন্ন অংশ বন্যার তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সেতুর পিলার দেবে গিয়ে হেলে পড়েছে, কোথাও ভেঙে গেছে রেলিং, আবার কোথাও ধসে গেছে সংযোগ সড়কের অংশ। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে কিছু স্থানে মাটি ভরাট করে সীমিতভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫-২০ বছর আগে নির্মিত এসব সেতু শোভনছড়ি খাল ও ধুইল্লাছড়ি ছড়ার ওপর অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে সেতুগুলো এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।
অটোরিকশাচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘বন্যার পর থেকেই সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও ছোট যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে। এতদিনেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’
শোভনছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পুজা দে বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের জন্য এই সেতুগুলো ব্যবহার করতে হয়। সেতুগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। চলাচলের সময় সবসময় ভয় কাজ করে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে আরও ঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুত সেতুগুলো সংস্কার করা হলে আমাদের যাতায়াত অনেক নিরাপদ হবে।’
সিএনজিচালক পারভেজ উদ্দিন বলেন, ‘সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক সময় বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই বাড়ছে।’
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এ সড়কের সঙ্গে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চা ও রাবার বাগানসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত রয়েছে। প্রতিদিন ৪০০০-৫০০০ মানুষ সরাসরি এসব সেতু ব্যবহার করেন।’
দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পরপরই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি এলাকার কৃষি ও ব্যবসায়-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সড়কের দুইটি সেতু গ্রেটার চিটাগং-৪ ও চট্টগ্রাম জেলার উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলোর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবও ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলোর বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান আছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ