কিশোরগঞ্জে বাড়ির একটি কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছেলে ও পুত্রবধূর মারধরে আব্দুর রাজ্জাক (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে আলম মিয়া ও তার স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে নিহতের স্ত্রী সাহেদা বেগম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এর আগে বুধবার রাতে সদর উপজেলার চৌধুরীহাটি এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির একটি কাঁঠাল গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে তার ছেলে আলম মিয়া ও পুত্রবধূর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পারিবারিক এই বিরোধ একপর্যায়ে তীব্র আকার ধারণ করলে ছেলে ও পুত্রবধূ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে আব্দুর রাজ্জাককে মেঝেতে ফেলে কিল-ঘুষি ও মারধর করে।
মারধরে গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম জানান, পরিবারটির মধ্যে আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাঝে-মধ্যে বিরোধ হতো। তবে একটি কাঁঠালকে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সৃষ্টি হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ার পর আমরা ছেলেকে কয়েকটি কাঁঠাল দিয়েছিলাম। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সে আলাদা সংসার করে। কিন্তু সে ও তার স্ত্রী আমাদের জন্য রাখা বাকি দুটি কাঁঠালও দাবি করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। তাদের মারধরের কারণেই আমার স্বামী মারা গেছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভুইয়া বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/ এমএস